গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে সংশয় কি পুরোপুরি কেটেছে?
মিশরে তিন দিন ধরে গোপন আলোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাস তার প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে সম্মত হয়েছে। এই ধাপে হামাস ২০ জন জীবিত ও ২৮ জন মৃত জিম্মিকে মুক্তি দেবে, আর ইসরায়েল ছাড়বে ২৫০ জন যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ও আরও ১,৭০০ আটক ফিলিস্তিনিকে। ইসরায়েল গাজার ৫৩ শতাংশ এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেবে এবং প্রতিদিন অন্তত ৪০০–৬০০ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশ করবে গাজায়।
চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি তদারক করবে মিশর, কাতার, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সেনাদের নিয়ে গঠিত একটি বহুজাতিক বাহিনী। গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন পরিচালনা করবে ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের একটি কমিটি, যার ওপর থাকবে ট্রাম্প ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার নেতৃত্বাধীন “শান্তি বোর্ড”-এর তত্ত্বাবধান।
তবে এই যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের পথে এখনো রয়ে গেছে একাধিক প্রশ্ন। হামাস কি সত্যিই নিরস্ত্রীকরণে রাজি হবে? ইসরায়েল কবে পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করবে, তার সময়সীমা কেন নির্ধারিত নয়? গাজার ভবিষ্যৎ শাসনে হামাস ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী হবে? আর ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই “শান্তি বোর্ড” কি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পথে সহায়ক হবে, নাকি নতুন এক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করবে?
দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এই চুক্তি নিঃসন্দেহে এক আশার আলো, কিন্তু গাজার আকাশে এখনো ঝুলে আছে অনিশ্চয়তার ছায়া।
সূত্র: বিবিসি