‘গাজা তুমি একা নও’—এক স্লোগানে কাঁপছে ঢাকা-করাচি!
“লাখো কণ্ঠে বাংলাদেশ যে প্রতিরোধের বার্তা গাজার আকাশে পাঠিয়েছে, এবার সেই একই প্রতিধ্বনি শোনা গেল পাকিস্তানেও। হাজার মাইল দূরের দুই দেশের ভৌগলিক সীমারেখা তুচ্ছ হয়ে গেছে একটাই দাবিতে—‘ফ্রি প্যালেস্টাইন!’ জাতি, ধর্ম, ভাষা বা ভূখণ্ড—কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি এই মানবতার ঢেউয়ের সামনে। কারণ এই বার্তা কেবল রাজনৈতিক নয়—এটা এক বিবেকের, এক আত্মার আহ্বান।
বাংলাদেশের রাজপথে ‘মার্চ ফর গাজা’ হয়ে উঠেছিল মানবতার এক মহাসমাবেশ!নারী-পুরুষ, শিশু-তরুণ, শহর আর গ্রাম—সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেমে এসেছিল রাস্তায়। কারো হাতে ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা, কারো পোস্টারে গাজার শিশুদের আর্তনাদ। চোখে ছিল অশ্রু, আর কণ্ঠে—আগুনঝরা স্লোগান:‘গাজা, তুমি একা নও!’ আর এবার, সেই একই সুর পৌঁছে গেল করাচির রাজপথেও!
১৪ এপ্রিল, পাকিস্তানের শাহরা-এ-ফয়সাল সড়ক জুড়ে ছিল লক্ষাধিক মানুষের ঢল। সাদা কাফনে মোড়ানো পুতুল, যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় গাজার শিশুদের নিষ্পাপ মৃত্যু। “লাব্বাইক ইয়া গাজা”—এই স্লোগান বেজেছে নারীর, শিশুর, এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কণ্ঠেও। সবার আজ পক্ষ একটাই, সেটা হল, ‘মানবতার পক্ষে’।
এদিকে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ‘মার্চ ফর গাজা’ উঠে এসেছে ইসরায়েলি গণমাধ্যমেও। সবচেয়ে বড় কথা, মানবতার প্রশ্নে আবার এক হয়েছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান — প্রমাণ করেছে দেশ আলাদা হলেও, হৃদয় তাদের অভিন্ন। ‘যদি দখলদাররা এক হয় ধ্বংসে, তবে আমরা এক হব না কেন মানবতার পক্ষে’, এই নীতিতে বিশ্বাসী এই আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক নয়—এটা আত্মার আহ্বান। অর্থাৎ এটা আর শুধু একটি দেশের প্রতিবাদ নয়। এটি জনতার বিবেক, এক জাতিগত চেতনার বিস্ফোরণ। যেখানে সীমানা নয়, কথা বলে হৃদয়! এটা বোধহয় স্পষ্টই বুঝতে পারছে ইসরায়েল।
আবারও পাসপোর্টথেকে ‘ইসরায়েল’ শব্দটি মুছে দিয়ে ইসরায়েলকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিঃসন্দেহে আরও একটি সাহসী বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ । "শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের আকাশে —‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ লেখা ড্রোন শোর প্রযুক্তিও সরকারের পক্ষ থেকে বেশ সাহসী উদ্যোগ। চীনের প্রযুক্তিতে তৈরি এ ড্রোন শো প্রমাণ করে গাজার পাশে দাঁড়াতে চীনের মতো বড় শক্তিও আজ এক কাতারে। অর্থাৎ ‘গাজা, তুমি একা নও’, এই বার্তা যেন দিবালোকের মতোই স্পষ্ট!