গাজা সিটিতে পূর্ণ দখল নিতে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু

ফিলিস্তিনি গাজা উপত্যকার প্রধান শহর গাজা সিটি দখল ও নিয়ন্ত্রণে নিতে পরিকল্পিত স্থল অভিযানের ‘প্রাথমিক পদক্ষেপ’ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, শহরের উপকণ্ঠে ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন বুধবার টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে জানান, সেনারা জেইতুন ও জাবালিয়া এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। এতে ভূপৃষ্ঠ ও ভূগর্ভস্থ হামাসের অবকাঠামো ধ্বংস করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। ডেফরিন বলেন, ‘আমরা গাজা সিটিতে হামাসের ওপর আরও গভীরভাবে আঘাত হানব। সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করব এবং জনগণের ওপর হামাসের নির্ভরতা ছিন্ন করব।’

ডেফরিন আরও জানান, জেইতুনে দুটি ও জাবালিয়ায় একটি ব্রিগেড মোতায়েন রয়েছে। জেইতুন এলাকায় সাম্প্রতিক অভিযানে অস্ত্রভর্তি একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ শনাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগেভাগেই তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।

গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনার অনুমোদন দেন। বিষয়টি এ সপ্তাহের শেষ দিকে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। অভিযানে অংশ নিতে আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুতে ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনাকে তলব করা হচ্ছে।

অভিযানের পর হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নষ্ট করছে এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে নির্মম যুদ্ধ চালাচ্ছে। গাজার বেসামরিক নিরাপত্তা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল জানান, জেইতুন ও সাবরা এলাকার পরিস্থিতি ‘খুবই ভয়াবহ ও অসহনীয়।’

সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বুধবার ওই এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন।

গাজা সিটির লাখো বাসিন্দাকে দক্ষিণাঞ্চলে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (আইসিআরসি) সতর্ক করেছে, নতুন করে বাস্তুচ্যুতি ও সহিংসতা বেড়ে গেলে গাজার ২১ লাখ মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলোর অনেকে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সতর্ক করেছেন, এ পদক্ষেপ দুই জাতির জন্যই ‘বিপর্যয়’ ডেকে আনবে এবং গোটা অঞ্চলকে স্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, গাজায় এখনো ৫০ জন জিম্মি রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত। ডেফরিন বলেছেন, অভিযানে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তবে জিম্মিদের পরিবারগুলোর আশঙ্কা, স্থল অভিযান তাঁদের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

আইসিআরসিও সতর্ক করেছে, নতুন এ অভিযান জিম্মিদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে।

All Categories