ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেও ব্যর্থ হওয়ার ৫ কারণ
আজকের ডিজিটাল যুগে ফ্রিল্যান্সিং একটিঅত্যন্ত জনপ্রিয় পেশা হয়ে উঠেছে।বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণরা এখনঅনলাইনে কাজ করে স্বাধীনভাবেআয় করার সুযোগ পাচ্ছেন।ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রবেশের ইচ্ছা অনেকেরই থাকে, কিন্তু কেন কিছু মানুষসফল হতে পারেন, আরকিছু মানুষ ব্যর্থ হন? ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষকএবং স্কিলআপারের প্রতিষ্ঠাতা শামীম হুসাইন তার অভিজ্ঞতা ওপর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ব্যর্থতার ৫টি প্রধান কারণতুলে ধরেছেন। সেগুলো জানলে, আপনি আপনার পথচলাআরো সঠিকভাবে সাজাতে পারবেন এবং সফলতার পথেএগিয়ে যেতে পারবেন।
না বুঝে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করা
ফ্রিল্যান্সিংশুরু করার জন্য সঠিকপ্রস্তুতি এবং আগ্রহ থাকাঅত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই শুধুমাত্র "লাখ টাকা আয়করার সুযোগ" দেখে ফ্রিল্যান্সিং শুরুকরেন, কিন্তু কখনোই তারা ভেবে দেখেননা যে, তারা যেকাজটি করতে যাচ্ছেন, তারপ্রতি আগ্রহ বা ‘প্যাশন’ আছেকি না। কোনো একটিকাজের প্রতি আগ্রহ না থাকলে, তাকরতে গিয়ে যেমন মজাপাওয়া যায় না, তেমনিদীর্ঘমেয়াদে সফল হওয়াও কঠিনহয়ে পড়ে। বাজারে প্রবেশকরার আগে, নিজের পছন্দেরকাজগুলো চিন্তা করে, সেগুলোর প্রতিআগ্রহ এবং প্রেরণা যাচাইকরা দরকার। ফ্রিল্যান্সিং শুধুমাত্র একটি কাজ নয়, এটি একটি জীবনের পেশাহতে পারে যদি আপনিসেই কাজটির প্রতি ভালোবাসা ও আগ্রহ অনুভবকরেন।
দক্ষতার অভাব
ফ্রিল্যান্সিংয়েরমূল ভিত্তি হলো দক্ষতা। যদিআপনি কোনো নির্দিষ্ট দক্ষতাঅর্জন না করেন, তাহলেসফল হওয়া অনেক কঠিনহবে। অনেকেই একসাথে অনেক কিছু শিখতেচান, কিন্তু বাস্তবে যদি আপনার একবা দুইটি বিষয়েই দক্ষতা অর্জন না থাকে, তাহলেআপনি অন্যদের থেকে আলাদা হয়েউঠতে পারবেন না। উদাহরণস্বরূপ, যদিআপনি ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে চান, তবে গুগলঅ্যাডস বা ফেসবুক অ্যাডস-এর মতো একটিবিষয়েই দক্ষ হতে চেষ্টাকরুন, তার পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতাঅর্জন করুন। পাশাপাশি, অন্যান্য বিষয়গুলো যেমন কনটেন্ট মার্কেটিং, এসইও (SEO), ওয়েব অ্যানালিটিক্স ইত্যাদিসম্পর্কে কিছুটা ধারণা রাখতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, কাজ পাওয়ার জন্য দক্ষতা নয়, আপনি যদি ‘বিশেষজ্ঞ’ হতেপারেন, তাহলেই সফলতা আসবে।
সময় না দেওয়া
ফ্রিল্যান্সিংকেঅনেকেই "পার্টটাইম" কাজ হিসেবে দেখতেচান, কিন্তু এটি একটি পূর্ণাঙ্গপেশা। সফল ফ্রিল্যান্সার হতেহলে আপনাকে আপনার সময় যথাযথভাবে পরিচালনাকরতে হবে। কাজ খোঁজা, ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, কাজ সম্পন্ন করা—এ সবকিছুর জন্যযথেষ্ট সময় প্রয়োজন। অনেকসময় নতুনরা মনে করেন, অল্পসময় দিয়েই ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হওয়া সম্ভব, যা একেবারেই ভুল। যদি আপনিদিনের নির্দিষ্ট সময়টা ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য না রাখেন, তাহলে আপনি কখনোই প্রকৃতসফলতা অর্জন করতে পারবেন না।ক্লায়েন্টের কাজ সময়মতো শেষকরতে হবে, এজন্য আপনাকেনিজের কাজ এবং ব্যক্তিগতজীবন মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সময়দিতে হবে।
সঠিক মার্কেটিং ও আত্মবিশ্বাসের অভাব
ফ্রিল্যান্সিংয়েসফল হতে হলে আপনাকে ‘পারসোনাল ব্র্যান্ডিং’ বা নিজের মার্কেটিংকরতে হবে। আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং কাজের মানক্লায়েন্টদের কাছে তুলে ধরতেহবে। এজন্য নিজের একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইটতৈরি করুন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় থাকুন, এবং বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিংপ্ল্যাটফর্ম যেমন ফাইভার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার ইত্যাদিতে একটি প্রোফাইল তৈরিকরুন। যদি আপনি নিজেরমার্কেটিং করতে না পারেন, তাহলে ক্লায়েন্টদের কাছে পৌঁছানো কঠিনহবে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণবিষয় হল আত্মবিশ্বাস। যদিআপনি নিজের কাজের ওপর বিশ্বাস নারাখেন, ক্লায়েন্টের সঙ্গে আলোচনা করার সময় যদিআত্মবিশ্বাসী না হন, তাহলেআপনি সফল হতে পারবেননা। নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপরবিশ্বাস রাখুন এবং সেই বিশ্বাসক্লায়েন্টদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টাকরুন।
ধৈর্য এবং অধ্যবসায়ের অভাব
ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সময়অনেক চ্যালেঞ্জ আসে। প্রথম কাজপাওয়ার জন্য বা ক্লায়েন্টেরআস্থা অর্জন করতে সময় লেগেযেতে পারে। অনেকেই এই সময়েই হালছেড়ে দেন, কিন্তু যারাধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়েযান, তারা একসময় সফলহন। আপনি যদি সহজেইহাল ছেড়ে দেন, তাহলেকখনোই সফলতা পেতে পারবেন না।প্রায়ই দেখা যায়, একদমহাল ছেড়ে দেওয়ার মুহূর্তেআপনার প্রথম কাজ আসে এবংতা থেকেই আপনার নতুন পথচলা শুরুহয়। ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে গেলেআপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে, শিক্ষানিতে হবে এবং ভুলথেকে শিখে পরবর্তী পদক্ষেপনিতে হবে।
ফ্রিল্যান্সিং একটি মুক্ত পেশা, কিন্তু এটি সহজ নয়।সফল হতে হলে কিছুগুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতেহবে—আপনার পছন্দের কাজ নির্বাচন, দক্ষতাঅর্জন, সময় দেওয়া, নিজেকেসঠিকভাবে মার্কেটিং করা এবং সবচেয়েগুরুত্বপূর্ণ ধৈর্য ধরে কাজ চালিয়েযাওয়া। যদি আপনি এইপাঁচটি মূল বিষয় অনুসরণকরেন, তাহলে ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হওয়ার পথঅনেক সহজ হয়ে যাবে।