ফোনালাপ ফাঁসকে কেন্দ্র করে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত

ফাঁস হওয়া এক ফোনালাপের জেরে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। আজ মঙ্গলবার আদালতের দেওয়া রায়ে বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের জন্য উপ প্রধানমন্ত্রী সুরিয়া জুংরুনগ্রুয়াংকিত ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপে পেতংতার্ন কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনকে ‘চাচা’ সম্বোধন করে এক থাই সামরিক কর্মকর্তার সমালোচনা করেন। এ ঘটনা ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আদালতে তাঁর বরখাস্ত চেয়ে একটি আবেদনও করা হয়।

রায়ে ৭-২ ভোটে পেতংতার্নকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় আদালত।

পেতংতার্ন চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হলে তিনি হবেন সিনাওয়াত্রা পরিবারের তৃতীয় সদস্য, যিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ক্ষমতা হারাবেন। এর আগে তাঁর ফুপু ইংলাক সিনাওয়াত্রা ও বাবা থাকসিন সিনাওয়াত্রা সামরিক হস্তক্ষেপে ক্ষমতাচ্যুত হন।

৩৮ বছর বয়সী পেতংতার্ন থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী। গত বছর বরখাস্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী স্রেত্তা থাভাইসিনের স্থলাভিষিক্ত হন তিনি। পেতংতার্ন ক্ষমতায় আসার পর দুর্বল অর্থনীতি চাঙা করার চেষ্টা করলেও সম্প্রতি জনপ্রিয়তা ধসে পড়েছে। গত সপ্তাহে এক জরিপে দেখা গেছে, তাঁর জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে মাত্র ৯ দশমিক ২ শতাংশে, যেখানে মার্চে ছিল ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ।

ফাঁস হওয়া ফোনালাপের বিষয়ে পেতংতার্ন দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, সেটি সীমান্ত বিরোধ নিয়ে কৌশলগত আলোচনার অংশ ছিল। তবে রক্ষণশীল রাজনীতিকেরা অভিযোগ এনেছেন, তিনি কম্বোডিয়ার কাছে ‘মাথানত’ করেছেন এবং থাই সামরিক বাহিনীকে অপমান করেছেন।

পেতংতার্নের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত এমন এক দিনে এলো, যেদিন তাঁর বাবা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধেও আদালতে বিচার শুরু হয়েছে। ৯ বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদপত্রে দেওয়া সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে রাজতন্ত্র অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।

থাকসিন ১৫ বছর স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকার পর ২০২৩ সালে দেশে ফেরেন। এরপর তাঁকে বিতর্কিত রাজতন্ত্র অবমাননা আইনের অধীনে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। তাঁর ফেরা এবং রাজনৈতিক পুনরাবির্ভাবের পেছনে পেউ থাই পার্টি ও রক্ষণশীল ঘরানার মধ্যকার একটি সমঝোতার ইঙ্গিত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে রক্ষণশীল সামরিক বাহিনী ও রাজতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীগুলো অতীতেও সিনাওয়াত্রা পরিবারের সরকারগুলোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে।

All Categories