ফের রাজপথে সক্রিয় হচ্ছে আ. লীগ, বাড়ছে ঝটিকা মিছিল
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারায় দীর্ঘদিন শাসনক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার। ওই সময় দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। শীর্ষ নেতারা কেউ পলাতক, কেউ কারাগারে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
সরকার পতনের পর থেকে প্রায় ডিসেম্বর পর্যন্ত দলটির নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে তেমন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়নি। বেশ কয়েকবার কর্মসূচি ঘোষণা করলেও বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয় আওয়ামী লীগ।
তবে ২০২৫ সালের শুরু থেকে পরিস্থিতির ধরণ পরিবর্তন হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে রাজপথে ফেরার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যাচ্ছে হঠাৎ করেই সংঘটিত ‘ঝটিকা মিছিল’। এই মিছিলগুলোতে দেখা যাচ্ছে ব্যানার, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, এবং দলীয় শ্লোগানে উত্তাল নেতাকর্মীদের উপস্থিতি।
সম্প্রতি দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আগে যেখানে ছোট পরিসরের মিছিল হত, এখন সেগুলোর আকার ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণও বেড়েছে বলে দাবি করছে দলটি।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি বিক্ষোভ মিছিলে দেখা যায় ঢাকা-১৮ আসনের ব্যানার। সেই মিছিল থেকে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পদত্যাগ দাবি করা হয়। প্রায় তিন মিনিটের ভিডিও আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল পেজে প্রকাশ করা হয়েছে।
একইদিন যাত্রাবাড়ী, ডেমরা এবং আংশিক কদমতলী থানা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো মিছিল করেছে। যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশীদ মুন্না মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে ছাত্রলীগের একটি ফেসবুক পেজে।
এর আগে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট এলাকায় যুবলীগের ব্যানারে মিছিল হয়েছে।
গত ১৬ এপ্রিল রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বিটিভি কার্যালয়ের সামনে হঠাৎ মিছিল করে আওয়ামী লীগ। এতে ঢাকা-১১ আসনের আওতাধীন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
৬ এপ্রিল গুলিস্তান এলাকায় আরও একটি ঝটিকা মিছিল করে দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় এক ব্যক্তিকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে জানা যায়, ওই মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়া ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কার্যনির্বাহী সদস্য শাহে আলম মুরাদকে ১৮ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিন স্মৃতিসৌধে বিক্ষোভের চেষ্টা করে কয়েকজন আওয়ামী লীগপন্থী নেতাকর্মী। তারা সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে পুলিশ তিনজনকে আটক করে।
এমন পরিস্থিতিতে দলের রাজপথে ফেরার চেষ্টাকে অনেকেই দেখছেন নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এসব মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের এমন হঠাৎ সক্রিয়তা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চিত্রে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো সময়ই বলে দেবে। তবে রাজনীতির মাঠে যে উত্তেজনার পারদ আবার বাড়ছে, তা স্পষ্ট।