Mar 10, 2025
ফাইনালের মঞ্চে পিসিবি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে অবাক শোয়েব আখতার

ফাইনালের মঞ্চে পিসিবি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে অবাক শোয়েব আখতার

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৩-এ আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তান থাকলেও, শিরোপা জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি। গতকাল, দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে পরাজিত করে শিরোপা জিতে নেয়। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আয়োজক দেশের কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতি না থাকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার শোয়েব আখতার। তিনি বিষয়টিকে দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

শোয়েব আখতার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাঁর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ভারত জিতে নিয়েছে, কিন্তু এক অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করলাম। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কোনো সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিল না। পাকিস্তান তো এই টুর্নামেন্টের আয়োজক দেশ, অথচ তাদের একজন প্রতিনিধি পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, এটা আমার কাছে সম্পূর্ণ অদ্ভুত। কী কারণে তারা প্রতিনিধি পাঠাল না বা ট্রফি তুলে দেওয়ার জন্য কাউকে পাঠাল না, আমি তা বুঝতে পারছি না। এটা একটা আন্তর্জাতিক মঞ্চ, যেখানে আমাদের উপস্থিতি থাকা উচিত ছিল। তবে দুঃখজনকভাবে আমরা কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।

এদিকে, ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই বিষয়টি নিয়ে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইর আহমেদ ফাইনালে উপস্থিত ছিলেন, তবে তাকে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ডাকা হয়নি। পিটিআই সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ফাইনাল ম্যাচের সময় দুবাইয়ে উপস্থিত ছিলেন না, কারণ তিনি আগে থেকেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে অন্য একটি প্রতিশ্রুতি পালন করছিলেন। তার পরিবর্তে পিসিবি সিইওকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু কিছু কারণে বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাঁকে মঞ্চে ডাকা হয়নি।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সমালোচনা করলেও, শোয়েব আখতার ভারতের চ্যাম্পিয়ন হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে তাদের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, ভারত অসাধারণ খেলেছে এবং deservedly শিরোপা জিতেছে। গত ১০ বছরে আইসিসি টুর্নামেন্টে তাদের সেরা দল হিসেবে আবির্ভূত হতে হয়েছে। গত বছরও তারা জিতেছিল, এবারও জিতল। তাদের দলটা দুর্দান্ত, বিশেষ করে বিরাট কোহলি এবং বরুণ চক্রবর্তীর মতো খেলোয়াড়রা। তাদের সবাইকে আমার শুভেচ্ছা, কারণ এটা তাদের প্রাপ্য ছিল।

এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মুহূর্ত ছিল, যেখানে পাকিস্তান এবং ভারত একে অপরের প্রতিবেশী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ক্রিকেটের মাধ্যমে একে অপরকে সম্মান জানাতে পারছে।

 

 

 

All Categories