এনবিআর বিলুপ্তির ব্যাখ্যা দিল সরকার

পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যমান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে দুটি স্বতন্ত্র বিভাগ গঠন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুনভাবে গঠিত এই বিভাগ দুটি হলো—রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব একসঙ্গে থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এনবিআরে স্বার্থের দ্বন্দ্ব, অদক্ষতা এবং দুর্নীতি দেখা দিয়েছে। এই নতুন কাঠামোর মাধ্যমে সেই সমস্যাগুলোর সমাধান এবং কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এনবিআর ধারাবাহিকভাবে তার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমানে মাত্র ৭.৪ শতাংশ, যা এশিয়ার সর্বনিম্ন এবং বৈশ্বিক গড় (১৬.৬ শতাংশ) থেকে অনেক কম। সরকারের লক্ষ্য হলো, এই অনুপাতকে অন্তত ১০ শতাংশে উন্নীত করা।

দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানে সংস্কার

সরকার বলছে, কর নীতি নির্ধারণ এবং কর আদায়—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব একই প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকায় করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। রাজস্ব নীতি বিভাগ এখন থেকে কর আইন প্রণয়ন, হার নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক কর বিষয়ক চুক্তি নিয়ে কাজ করবে। অপরদিকে, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ কর আদায়, নিরীক্ষা এবং আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এনবিআরের কর্মকর্তারা এতদিন কার্যকর জবাবদিহির বাইরে ছিলেন। অনেক ক্ষেত্রেই কর খেলাপিদের সঙ্গে আপস করে কিংবা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। কর্মদক্ষতা যাচাইয়ের কোনো কার্যকর পদ্ধতি ছিল না। ফলে রাজস্ব আহরণও আশানুরূপ হয়নি।

নতুন কাঠামোর সুফল কী হবে?

সরকারের মতে, এই নতুন কাঠামোর মাধ্যমে— কর নীতিতে স্বচ্ছতা আসবে এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব কমবে, ট্যাক্স নেট সম্প্রসারণ সহজ হবে, পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীলতা কমে প্রত্যক্ষ কর আদায় বৃদ্ধি পাবে, দক্ষ জনবল উপযুক্ত স্থানে কাজ করতে পারবে, ভবিষ্যতমুখী ও টেকসই কর নীতিমালা প্রণয়ন সম্ভব হবে ,বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং বেসরকারি খাতের অভিযোগ কমে আসবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটি কেবল একটি আমলাতান্ত্রিক রদবদল নয়, বরং একটি উন্নত, স্বচ্ছ ও কার্যকর কর প্রশাসন গঠনের লক্ষ্যে নেওয়া জরুরি পদক্ষেপ।

সরকার আশা করছে, এই সংস্কারের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থার জবাবদিহি ও দক্ষতা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন, জনসেবার মানোন্নয়ন ও নাগরিক চাহিদা পূরণে বড় অগ্রগতি সাধিত হবে।

All Categories