এক হাজার কোটি টাকার ধার পেল ন্যাশনাল ব্যাংক
বিভিন্ন জালিয়াতির কারণে সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংককে আরও এক হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের ডিমান্ড প্রমিসরি নোটের বিপরীতে ‘লেন্ডার অব দ্য লস্ট রিসোর্ট’ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এ অর্থ দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারায় ব্যাংকটি সাড়ে ১১ শতাংশ সুদে এ অর্থ পেয়েছে। এর আগে একই উপায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ছয় হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার পেয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত সরকারের সময়ে ব্যাপক অনিয়ম-জালিয়াতির কারণে ন্যাশনাল ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং ব্যাংকটির আরেক পরিচালক জাকারিয়া তাহের বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্য।
২০০৯ সাল থেকে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ ছিল জয়নুল হক সিকদার পরিবারের হাতে। তখন নিয়মবহির্ভূতভাবে এক পরিবার থেকে পাঁচজন পরিচালক, বেনামি ঋণ, কমিশনের বিপরীতে ঋণ, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়োমের অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি জয়নুল হক সিকদার মারা যাওয়ার পর ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্তানদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে এনবিএলের নিয়ন্ত্রণ এস আলম গ্রুপের হাতে তুলে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির ৪২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৩২ হাজার ৪০ কোটি টাকা। মোট ঋণের যা ৭৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ২৮২ কোটি টাকা।
ন্যাশনাল ব্যাংক ছাড়াও বিভিন্ন জালিয়াতির প্রভাবে সংকটে পড়া প্রিমিয়ার ব্যাংককে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কয়েকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান আকস্মিকভাবে আমানত তুলে নিলেও অন্য ব্যাংক থেকে টাকা পাচ্ছিল না ব্যাংকটি। তাই বিশেষ এই ধার দেওয়া হয়। এর মধ্যে চার হাজার কোটি টাকার বন্ড ও এক হাজার কোটি টাকা নগদ দেওয়া হয়।