এই যুদ্ধে ইরানের জনগণই ‘বিজয়ী পক্ষ’ এবং ইরানই ‘বিজয়ী জাতি’: মোজতবা খামেনি

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের জনগণই ‘বিজয়ী পক্ষ’ এবং ইরানই ‘বিজয়ী জাতি’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাঁর নামে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি উল্লেখ করেন, তাঁর সরকার যুদ্ধের ‘প্রতিটি ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করবে’ এবং যারা এই যুদ্ধে আহত হয়েছেন, তাঁদের জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ দাবি করবে।

বিবৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ইরান সরকার ‘হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনাকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে’। তবে এই ব্যবস্থাপনা কীভাবে কার্যকর করা হবে বা এর প্রকৃতি কী হবে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত এটি।

আলোচনা ও দরকষাকষির টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ইরানপন্থিদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন মোজতবা খামেনি। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উন্মুক্ত চত্বরে আপনাদের কণ্ঠ আলোচনা ও দরকষাকষির পরিণতিতে প্রভাব ফেলে।’

সর্বোচ্চ নেতা আরও স্পষ্ট করেন যে, ইরান কখনোই যুদ্ধ চায়নি এবং এখনো চাচ্ছে না। তবে নিজেদের বৈধ অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কোনোভাবেই পিছু হটবে না তেহরান। এই অবস্থানের মধ্যে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র ও সহযোগী গোষ্ঠীগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

"ইরান কখনোই যুদ্ধ চায়নি এবং এখনো চাচ্ছে না। তবে নিজেদের বৈধ অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কোনোভাবেই পিছু হটবে না।" — মোজতবা খামেনির বিবৃতি।

যুদ্ধের শুরুতে তাঁর বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদ গ্রহণ করেন মোজতবা খামেনি। তবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বর্তমানের এই চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি। বৃহস্পতিবারের এই লিখিত বিবৃতিটি তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

All Categories