Apr 30, 2025
এবার অনলাইনে ‘চা যুদ্ধ’, মুখোমুখি আফ্রিদি-ধাওয়ান!

এবার অনলাইনে ‘চা যুদ্ধ’, মুখোমুখি আফ্রিদি-ধাওয়ান!

জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ২২ এপ্রিলের ভয়াবহ হামলায় প্রাণ হারান ২৬ ভারতীয় ।  গোটা উপমহাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। কূটনৈতিক অঙ্গনে যখন যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনীভূত, তখন সেই রেশ গিয়ে ঠেকে দুই দেশের ক্রিকেটাঙ্গণের দুই পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি বাকযুদ্ধে—পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি বনাম ভারতের শিখর ধাওয়ান!

ঘটনার সূচনা ২৭ এপ্রিল (রোববার)। পাকিস্তানি টেলিভিশন সামা টিভির একটি টকশোতে যোগ দিয়ে আফ্রিদি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে একহাত নেন। তিনি বলেন, “ভারতের মিডিয়া একটা ঘটনা ঘটার এক ঘণ্টার মধ্যেই বলিউড হয়ে যায়। নাটক করে, অথচ প্রমাণ দেখায় না। মিডিয়ার কাজ মানুষকে তথ্য দেওয়া, গল্প বানানো নয়।”

এরপরই কাশ্মীরে মোতায়েন ভারতীয় সেনা নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “৮ লাখ সৈন্য বসিয়ে রেখেও যদি হামলা ঠেকাতে না পারো, তাহলে তোমাদের কাজটা কী?”

কিন্তু বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে তার আরেকটি বক্তব্য—“যে কোনো ঘটনায় তো পাকিস্তানের দোষ! অথচ আমরা তো আগেই প্রমাণ দিয়েছি—তোমাদের এক সদস্য এখনো আমাদের কাছে আছে, আরেকজনকে তো আমরা চা খাইয়ে বিদায় দিয়েছি!”

এই মন্তব্যেই ফের আলোচনায় উঠে আসে ২০১৯ সালের সেই বহুল চর্চিত ঘটনা, যখন ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে পাকিস্তান। আটক হন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। পরদিনই তার ‘চা খাওয়ার ভিডিও’ ভাইরাল হয়, যেটি পাকিস্তানের কূটনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল আন্তর্জাতিক পরিসরে।

আফ্রিদির মন্তব্যকে ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে এক্স (সাবেক টুইটার)। নেটিজেনদের মতে, আফ্রিদি আবারও সেই পুরনো স্মৃতি টেনে এনে ভারতকে ট্রোল করতে চেয়েছেন এবং ঠিক তখনই বলের জবাবে ব্যাট হাঁকান ভারতের সাবেক ওপেনার শিখর ধাওয়ান।

ধাওয়ান এক্সে লেখেন, কারগিলে হেরেছো, এখনো এত নিচে নামছো কেন? অহেতুক মন্তব্য না করে বরং দেশের উন্নয়ন নিয়ে ভাবো। আমাদের সেনাবাহিনীর প্রতি আমাদের গর্ব চিরকাল থাকবে।”

তবে আফ্রিদিও থেমে থাকেননি। পাল্টা পোস্টে লেখেন, হার-জিত বাদ দাও শিখর, আসো তোমাকে চা খাওয়াই।” সঙ্গে জুড়ে দেন নিজের হাস্যোজ্জ্বল চা খাওয়ার ছবি এবং হ্যাশট্যাগ দিয়ে ফ্যান্টা্টিক টি ও লিখতে দেখা যায় তাকে!

আফ্রিদির এই মন্তব্য নিছক ঠাট্টা নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা। চায়ের কাপের আড়ালে লুকিয়ে আছে অতীতের সামরিক সংঘর্ষের ব্যঙ্গাত্মক পুনরাবৃত্তি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ‘সোশ্যাল মিডিয়া ডিপ্লোম্যাসি’রই এক খেলা।’

যুদ্ধ হবে কি হবে না, তা সময়ই বলবে। তবে এ মুহূর্তে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের মতোই উত্তপ্ত হয়ে আছে সোশ্যাল মিডিয়ার মাঠ। ব্যাট-বল সরিয়ে, দুই সাবেক ক্রিকেটার এখন লড়ছেন চা নিয়ে এক নতুন ইনিংস!

All Categories