দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার
দেশের যোগাযোগ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে বড় ধরনের রোডম্যাপ তৈরি করছে সরকার। এই মহাপরিকল্পনার আওতায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া প্রান্তে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, উত্তরাঞ্চলের যানজট নিরসনে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ১ মার্চ সেতু বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের নথি থেকে এসব মেগা প্রকল্পের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রাক্কলন ও পরবর্তী দুই অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে ওই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সেতু বিভাগের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে পাটুরিয়া ও গোয়ালন্দকে যুক্ত করতে ৪.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি নির্মিত হলে এন৫ ও এন৭ জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে। এতে রাজধানীর সঙ্গে দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দূরত্ব কমবে এবং মোংলা বন্দর ও বেনাপোল-দর্শনা স্থলবন্দরের পণ্য পরিবহন সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।
সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। এর সম্ভাব্যতা যাচাই বা প্রাইমারি স্টাডির কাজ নতুন করে শুরু হয়েছে। আগের স্টাডি থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি কোথায় করলে সবচেয়ে বেশি লাভজনক হবে, তা সমীক্ষা শেষে চূড়ান্ত করা হবে।”
বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ছয় লেনে উন্নীত হলেও মূল সেতুটি চার লেনের। ফলে সংযোগ সড়ক দিয়ে দ্রুত আসা যানবাহনগুলো সেতুর মুখে এসে তীব্র যানজট সৃষ্টি করছে। এই সংকট কাটাতে ২০৩৩ সালের মধ্যে যমুনা নদীর ওপর আরেকটি বিকল্প সেতু নির্মাণ করতে চায় সেতু বিভাগ। বর্তমানে বগুড়া-জামালপুর করিডোর, গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত রুটের ওপর সমীক্ষা চলছে।
দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে প্রতিদিন ৩০ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে। এই চাপ সামলাতে এবং আমদানি-রপ্তানি গতিশীল করতে একটি উড়াল সড়ক বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সেতু বিভাগ। এই এক্সপ্রেসওয়েকে 'আউটার রিং সার্কুলার'-এর মাধ্যমে মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করার মাস্টারপ্ল্যানও সরকারের রয়েছে।
সেতু বিভাগের আওতায় বর্তমানে চলমান ও ভবিষ্যৎ মিলিয়ে মোট ৫৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন মেগা প্রকল্পগুলোর জন্যই বরাদ্দ প্রয়োজন হবে প্রায় ১২ লাখ ৫৯ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে।