দু’সপ্তাহ সময় নেওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আচমকাই যুদ্ধে আমেরিকা

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা জানানোর জন্য দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার দেওয়া ঘোষণায় ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়ার একটা সম্ভাবনা আছে। তবে সেই পথে হাঁটব কি না, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেব।

কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই, মাত্র ৭২ ঘণ্টার মাথায় ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে সরাসরি হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র। হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প নিজেই। দাবি করেছেন, ইরানের ‘দুর্ভেদ্য’ ফরদো পারমাণবিক কেন্দ্র ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। হামলাকে তিনি বলেছেন ‘ঐতিহাসিক সাফল্য’, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে অংশ নিয়েছে।

ট্রাম্পের এ হামলা রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তাহলে কি দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে দেওয়া ঘোষণা ছিল কেবল চাপ সৃষ্টির কৌশল? নাকি লোক দেখানো এক কূটনৈতিক পাঁয়তারা? বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতার কথা বলে ট্রাম্প আসলে সময় নিচ্ছিলেন সামরিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঠিক একদিন আগে, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে ইউরোপের তিন দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি। বৈঠকে ইউরোপ ইরানের ওপর চাপ বাড়ায়, যাতে দেশটি তার পরমাণু কর্মসূচি পরিত্যাগ করে। ইরান স্পষ্ট জানায়, তারা সমঝোতার পথে না গেলেও আলোচনায় বসতে রাজি। একইসঙ্গে জানিয়ে দেয়, ‘ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে শান্তি আলোচনা এগোবে না।

বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় রাত পোহাতেই আমেরিকা নেমে পড়ে সামরিক অভিযানে। ফরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনাই ছিল এ হামলার লক্ষ্যবস্তু।

গত ১৩ জুন ইরানের একটি পারমাণবিক কেন্দ্রে ইসরায়েলের হামলায় নয়জন বিজ্ঞানী ও সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যু ঘটে। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। শুরু থেকেই ইসরায়েলের পাশে থাকলেও, সরাসরি সংঘাতে নামতে কিছুটা সময় নিচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির অনড় অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত সেই ‘দূরত্ব’ রাখার কৌশল ভেঙে ফেলল ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ইরানের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তেহরান আগেই জানিয়ে দিয়েছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি ‘মানবকল্যাণের জন্য’ এবং তারা কোনো ধরনের হুমকিতে মাথা নত করবে না।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আলোচনার রাস্তা এখন আরও সংকীর্ণ হয়ে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এই সংঘাত একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। বিশ্বের পরাশক্তিরা ইতিমধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করলেও, তাতে কতটা কাজ হবে, তা নিয়েও আছে অনিশ্চয়তা।

এখন নজর ইরানের দিকে—তারা কী জবাব দেয়, আর যুক্তরাষ্ট্র এই উত্তেজনাকে কোথায় নিয়ে যায়। একপক্ষের ঘোষণার আগেই অন্য পক্ষের গোলা—এই পরিস্থিতিতে শান্তি যে আরও দূরে সরে যাচ্ছে, তা বলাই যায়।

All Categories