দুই উপদেষ্টার এপিএস-পিও’র তদবির সিন্ডিকেট: শতকোটি টাকার বাণিজ্য ফাঁস

স্থানীয় সরকার ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেন এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (ছাত্র প্রতিনিধি) তুহিন ফারাবির বিরুদ্ধে তদবির বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২১ এপ্রিল সরকারিভাবে দুজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, মোয়াজ্জেম হোসেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে ঘুরে ঘুরে বদলি ও নিয়োগে তদবির করতেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকৌশলী, সচিব, এমনকি পুলিশ বিভাগেও ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিতে মোয়াজ্জেম তদবির করতেন। একেকটি বদলিতে নেওয়া হতো লাখ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সচিবালয় ও বিভিন্ন দপ্তরে অবস্থান করে তদবির চালাতেন মোয়াজ্জেম। একসময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও, পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদের দোসর প্রকৌশলীদের পুনর্বাসনের জন্য তদবির চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা তুহিন ফারাবি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডা. মাহমুদুল হাসানও বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল, পরিচালক, সিভিল সার্জনসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বদলি ও নিয়োগে তদবির করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক সূত্র জানায়, বদলিপ্রতি ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো। সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ বদলিতেও নেওয়া হতো দুই লাখ টাকা করে। হজ টিমে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্যও আদায় করা হয়েছে অর্থ। অভিযোগ রয়েছে, এসব অর্থের বড় অংশ বিদেশে পাচার করেছেন মাহমুদুল হাসান, যিনি বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন।

তবে মোয়াজ্জেম হোসেন  বলেন, আমাকে অপসারণ করা হয়নি। আমি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। আগামী মাসে পিএসসি’র ভাইভা আছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরীক্ষাতেও অংশ নিচ্ছি।

নিজের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি এক টাকার দুর্নীতি করেছি, কেউ তা প্রমাণ করতে পারবে না।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত তুহিন ফারাবি ও ডা. মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তুহিন ফারাবিকে ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। আর মাহমুদুল হাসান রাশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং তাঁর দেশে ফেরার বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সূত্র: যুগান্তর।

All Categories