ডোনাল্ড ট্রাম্প নয়, শান্তিতে নোবেল পেলেন মারিয়া কোরিনা
এ বছরের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। স্বৈরশাসন থেকে গণতন্ত্রে ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ রূপান্তরের আন্দোলনে তাঁর দীর্ঘ ও নিরলস ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দিয়েছে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।
বাংলাদেশ সময় আজ শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নোবেল কমিটি পুরস্কারটির ঘোষণা দেয়। কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, মারিয়া কোরিনা মাচাদো সাহস ও নৈতিক দৃঢ়তার সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন।
দ্য নোবেল প্রাইজ ডটঅর্গের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্রের আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে মাচাদো এক অনন্য সাহসিকতার উদাহরণ। লাতিন আমেরিকার দেশটিতে তিনি রাজনৈতিক বিরোধিতার মধ্যেও ঐক্য ও আশার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
মারিয়া কোরিনা মাচাদো ২০০২ সালে ‘সুমাতে’ নামে একটি নাগরিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন, যা ভেনেজুয়েলায় সুষ্ঠু ও স্বাধীন নির্বাচন নিশ্চিতের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গত দুই দশক ধরে তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার রক্ষা এবং জনপ্রতিনিধিত্বের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী ছিলেন মাচাদো। কিন্তু ক্ষমতাসীন নিকোলাস মাদুরো সরকার তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করে দেয়। এরপর তিনি বিরোধী দলের অন্য প্রার্থী এডমুন্ডো গনজালেস উরুতিয়াকে সমর্থন দেন।
বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবককে সঙ্গে নিয়ে তিনি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেন। হয়রানি, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঝুঁকি সত্ত্বেও তাঁরা ভোটকেন্দ্রে থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।
নোবেল কমিটি বলেছে, গণতন্ত্রই স্থায়ী শান্তির পূর্বশর্ত। শুধু ভেনেজুয়েলায় নয়, বিশ্বজুড়ে যেখানে জনগণের অধিকার খর্ব হচ্ছে, সেখানেও মাচাদোর সংগ্রাম অনুপ্রেরণার উৎস।
ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ২০১৩ সালে হুগো শ্যাভেজের মৃত্যুর পর থেকে ক্ষমতায় আছেন। তাঁর শাসনামলে বিরোধী রাজনীতিবিদদের ওপর দমন-পীড়ন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে বছরের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিজেকে শান্তিতে নোবেল পাওয়ার যোগ্য বলে দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সাতটি যুদ্ধ বন্ধে ভূমিকা রেখেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত নোবেল কমিটি মাচাদোকেই বেছে নেয়, যিনি “অস্ত্র নয়, সাহস ও গণতন্ত্রের শক্তিতে” লড়াই করে গেছেন।
গত বছর শান্তিতে নোবেল পেয়েছিল জাপানি সংগঠন নিহন হিদানকিও, যা হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সংগঠন। তাদের পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছিল।