দিন বদল, দৃশ্যপটও বদল—চাপে এখন বাংলাদেশ

গল টেস্টের জোয়ারে থাকা বাংলাদেশ দল কলম্বোতে যেন উল্টো স্রোতে ভাসছে। প্রথম ইনিংসে ২৪৭ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় দিনেই লঙ্কান ওপেনারদের দাপটে চাপে পড়েছে টাইগাররা।

দ্বিতীয় দিন শেষে শ্রীলঙ্কা ২৭ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ১০৯ রান। ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ৫৮ রানে অপরাজিত, তাঁর সঙ্গী দিনেশ চান্ডিমাল। লঙ্কানদের ৮৮ রানের জুটি ভেঙেছেন তাইজুল ইসলাম, ফিরিয়েছেন লাহিরু উদারাকে (৪০)।

এর আগে সকালে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ২৪৭ রানে। আগের দিন ২২০ রানে ৯ উইকেট হারানো দলটি আজ আর মাত্র ৭.৩ ওভার স্থায়ী হয়। শেষ ব্যাটার এবাদত হোসেন আউট হওয়ার আগে ৩৩ রানের ইনিংস খেলেন তাইজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরু দিনের প্রথম ভাগেই। শুরুর দিকে এনামুল হক বিজয় ও মুমিনুল হক ব্যর্থ হন। ওপেনার সাদমান ইসলাম ও গল টেস্টের নায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা দৃঢ়তা দেখান। লাঞ্চ পর্যন্ত স্থায়ী হন দুজন। তবে বিরতির পরই তিন রান যোগ করেই ফিরে যান দুইজনই—সাদমান করেন ৪৬, শান্ত ৮।

এরপর দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। বল নরম ছিল, উইকেট ছিল ব্যাটিংয়ের অনুকূলে। ৬৭ রানের জুটি গড়ে দলকে রক্ষা করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু হঠাৎই আত্মঘাতী শটে লিটন আউট হলে ভেঙে পড়ে জুটি। কিছুক্ষণ পর সুইপ খেলতে গিয়ে উইকেট দেন মুশফিকও। দুজনের ইনিংস যথাক্রমে ৩৫ ও ৩৪ রানে থামে।

নিম্ন মধ্যক্রমে কিছুটা চেষ্টা করেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান। কিন্তু মিরাজ ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট চালিয়ে ৩১ রানে আউট হন। এরপর নাঈম করেন ২৫ রান।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন শ্রীলঙ্কার অভিষিক্ত বাঁহাতি পেসার সোনাল দিনুশা। লিটন, মুশফিক ও তাইজুল—বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ তিন উইকেটই তাঁর শিকার।তাঁর সঙ্গে সমান ছন্দে ছিলেন আসিথা ফার্নান্দো (৩ উইকেট) ও বিশ্ব ফার্নান্দো (২ উইকেট)।

গল টেস্টের দুটি ইনিংসেই রানশূন্য থাকা এনামুল হক বিজয়ের ব্যর্থতা চলেছে কলম্বোতেও। এবারও শূন্য। ১০ বল খেলে কোনও রান না করে পেছনের বলেই ‘প্লেড অন’ হয়ে বোল্ড হন। দুবার জীবন পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি।

কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ম্যাচে এগিয়ে শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের সামনে এখন লড়াই টিকে থাকার। শেষ বিকেলে উইকেট পেয়েছেন তাইজুল, তবে বড় জুটি গড়ার পথে আছে লঙ্কানরা।

বাংলাদেশের জন্য ম্যাচে ফিরতে হলে দ্রুত উইকেট তুলে নিতে হবে। অন্যথায় এই টেস্ট ম্যাচে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

All Categories