দিল্লিতে মায়ের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করলেন জয়
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী একমাত্র পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ঈদুল আজহার আগে ভারতে এসে মায়ের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, ঈদের দিন নয়াদিল্লির সেফ হাউসে মায়ের সান্নিধ্যে ছিলেন জয়।
গত ৫ আগস্ট গণআন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর, এবারই প্রথম পরিবারের কারও সঙ্গে তাঁর দেখা হলো। এই সফরকে ঘিরে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ঈদের একদিন আগে শুক্রবার রাতে এক সঙ্গীকে নিয়ে দিল্লি পৌঁছান জয়। মাকে সামনে পেয়ে আবেগে বিহ্বল হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন তিনি।
মায়ের হাতের রান্না—বিশেষ করে মোরগ পোলাওয়ের প্রতি জয়ের দুর্বলতা বরাবরের,মোরগ পোলাও খেতে বড্ড ভালোবাসেন জয়।ঈদের দিন সকালে শেখ হাসিনা নিজেই রান্নাঘরে ঢুকে প্রিয় ছেলের জন্য মোরগ পোলাও, মাছ, সবজি ও ডাল রান্না করেন। দুপুরে নিজের হাতে খাওয়ান জয়কে। একসময় হাসিনা যখন ছেলেকে আরেকটি রান পিস খাওয়াতে চাইলেন, জয় হেসে বলেন, আর না.. আর পারব না, প্লিজ়!
আর জানা যায়, গত মার্চের শেষ দিনটিতে ছিল ঈদুল ফিতর। তার আগের দিন দিল্লি থেকে এক জন আমেরিকা যাচ্ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ধরতে যাওয়ার পথে তার হাতে পৌঁছায় একটি ক্যাসারোল।অতি যত্নে সেটি নিয়ে তিনি পৌঁছিয়ে দিয়েছিলেন ভার্জিনিয়ার ওয়াজ়েদ কনসালটেন্সি ইনকর্পোরেটের কর্ণধার সজিব ওয়াজেদের কাছে।
সেই পরিচিতজনের হাত থেকে ক্যাসারোলটি গ্রহণ করেছিলেন জয়। আর সেই ক্যাসারোলে ছিলো দিল্লি থেকে পাঠানো শেখ হাসিনার নিজের হাতে তৈরি সেই মোরগ পোলাও।
এদিকে ঈদ কাটিয়ে রবিবারই ভার্জিনিয়ার উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছেন হাসিনা-পুত্র।পরিবারঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানায়, এ সফর ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে জয়ের অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল না।দিল্লি ও কলকাতায় পূর্ব পরিকল্পনা মতো সফরটি এ মাসের শেষ দিকে হতে পারে।এ মাসের শেষ দিকেই আবার দেখা হবে বলে জানাচ্ছেন তিনি। সেটা হবে সরকারি সফর।।
টেকনিক্যাল কিছু বিষয়ের জন্য এই সফর নিয়ে কিছুই বলা যাবে না। মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।