ঢাবির সাবেক ভিসি আরেফিন সিদ্দিক আর নেই
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের নিউরোসায়েন্স ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ খবরটি নিশ্চিত করেছেন অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকের ছোট ভাই সাইফুল্লাহ সিদ্দিক তুহিন। তিনি জানান মস্তিষ্কে স্ট্রোক ও রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার মৃত্যু ঘটেছে।
অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকের জানাজার স্থান এখনও চূড়ান্ত হয়নি। জানা গেছে আগামীকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে কিছু সমস্যার কারণে তা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ বা ধানমন্ডি-৭ এলাকায় অনুষ্ঠিত হতে পারে।
অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক গত বৃহস্পতিবার ঢাকা ক্লাবে (রমনায়) দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় হঠাৎ পড়ে যান এবং মাথায় আঘাত পান। এরপর তাকে দ্রুত ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শুরুর পর তাকে নিউরোসায়েন্স ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক খ্যাতনামা শিক্ষক ছিলেন। ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। উপাচার্য হিসেবে তার দায়িত্ব ২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়, এরপর তিনি পুনরায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২০ সালের জুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
অধ্যাপক সিদ্দিক ২০২০ সালের ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক, ১৯৯৪ ও ১৯৯৬ সালে সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০৪ ও ২০০৫ সালে সভাপতি ছিলেন।
একই সাথে তিনি ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক পরিসরে, স্পেনের রাজার পক্ষ থেকে ২০১১-২০১২ সালে নারী উন্নয়ন, নারী শিক্ষা এবং সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে তার নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অর্ডার অব সিভিল মেরিট পুরস্কারে ভূষিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য হিসেবে তার অবদান চিরকাল স্মরণীয় থাকবে।