ঢাবির ছাত্রীকে হেনস্তা,গ্রেপ্তার কর্মচারীর মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানায় তৌহিদী জনতা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি মোস্তফা আসিফ অর্ণবের মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে মধ্যরাত থেকে শুরু হয় এক বিক্ষোভ।তৌহিদী জনতা নামধারী একদল লোক রাতভর অবস্থান নেয় এবং সকাল পর্যন্ত তারা থানা এলাকা ছেড়ে যায় না।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (০৬ মার্চ) সন্ধ্যায়,যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারী বুকবাইন্ডার মোস্তফা আসিফ (২৫) এক নারী শিক্ষার্থীকে শাহবাগ থেকে ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে হেনস্তা করেন। শিক্ষার্থী জানান, রাস্তায় চলার সময় হঠাৎ করে তাকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে অর্ণব তার পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন, তোমার পোশাক ঠিক নয়, তুমি পর্দা করো না,এবং তার আচরণ ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। শিক্ষার্থী আরও জানান, যখন তিনি তাকে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করার কথা বলেন, তখন অর্ণব দ্রুত পালিয়ে যান।
ঘটনার পর, ওই শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে অভিযোগ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা আমলে নিয়ে অর্ণবকে পুলিশে হস্তান্তর করে। ঢাবি প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা অর্ণবকে আমার অফিসে নিয়ে আসি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হেনস্তার কথা স্বীকার করে এবং পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
রাত দেড়টার দিকে, গ্রেপ্তারের পর অর্ণবের মুক্তির দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে একদল লোক জমা হতে থাকে। তারা বিক্ষোভ করে এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষ থেকে ঘটনার লাইভ স্ট্রিমিং শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা অর্ণবের সরাসরি সাক্ষাৎকারও সম্প্রচার করেন। তাদের দাবি ছিল, অর্ণবকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানায় অবস্থান করবেন।
বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, তারা তারাবির নামাজের পর গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে রাতভর থানায় এসে অবস্থান নিয়েছেন।অপর এক বিক্ষোভকারী অভিযোগ করেন, পুলিশ অর্ণবের বক্তব্য জোরপূর্বক নিয়েছে। তার মুক্তি না হলে আমরা এখানেই থাকব, তিনি জানান।
বেলা ৯টার দিকে, বিক্ষোভকারীরা থানার এলাকা ছেড়ে চলে যায়, তবে সকালেই থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ মনসুর জানান, মোস্তফা আসিফ অর্ণবকে গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।ঢাবি কর্তৃপক্ষও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিয়েছে ।