ঢাবি শিক্ষার্থী সাম্য হত্যায় প্রধান ঘাতকের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ফের শাহবাগ থানা ঘেরাও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডের ‘প্রকৃত’ অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ফের শাহবাগ থানা ঘেরাও করেছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে শুক্রবার একই দাবিতে দেড় ঘণ্টা থানার সামনে অবস্থান করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন তারা।

সেই সময়সীমা আজ শেষ হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পরও ‘প্রধান ঘাতক’ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে, তারা এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বা সরাসরি হামলাকারী নন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

শাহরিয়ার আলম সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

গত সোমবার (১৩ মে) গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে রমনা কালীমন্দিরসংলগ্ন এলাকায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন সাম্য।

পুলিশ বলছে, সেদিন রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে সাম্য তাঁর দুই বন্ধু আশরাফুল আলম রাফি ও মো. আব্দুল্লাহ আল বায়েজিদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ফিরছিলেন। রমনা কালীমন্দিরের উত্তর পাশে বটগাছের কাছে পৌঁছালে ১০–১২ জন দুর্বৃত্ত তাদের গতিরোধ করে।

পরে সাম্যদের মোটরসাইকেল ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার পর উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা কিল-ঘুষি ও ইট দিয়ে তাদের আঘাত করে। এরপর এক দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাম্যর ডান পায়ের রানে উপর্যুপরি আঘাত করে।

সাম্যর বন্ধুরা তাকে আহত অবস্থায় দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানকার জরুরি বিভাগে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা হলেন—তামিম হাওলাদার (৩০), সম্রাট মল্লিক (২৮) ও পলাশ সরদার (৩০)।

তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, এরা কেউই ঘটনার মূল হোতা নন। তাঁরা ঘটনার প্রকৃত পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আজ শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা বারবার বলছি, প্রকৃত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করুন। যাঁদের ধরা হয়েছে, তাঁরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল ঘাতক নন। এটা সবাই জানে, পুলিশও জানে।

আরেক আন্দোলনকারী বলেন, এটা শুধু সাম্যর হত্যার বিচার নয়, বরং ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। আজ আমরা ঘেরাও কর্মসূচি দিয়েছি, কাল প্রয়োজনে অনশনেও যাব।

ঘটনার বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি মামুন অর রশিদ বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত যাঁদের তথ্য প্রমাণ মিলেছে, তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।

এদিকে সাম্য হত্যাকাণ্ডে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ নানা মহল থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। দ্রুত প্রকৃত ঘাতকদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ক্যাম্পাসজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিও চলছে।

All Categories