দেশে গ্যাস সংকটের দায় কাদের ওপর চাপালেন জ্বালানি উপদেষ্টা?

দেশে চলমান গ্যাস সংকটের জন্য সরাসরি একশ্রেণির রাজনীতিবিদ ও তাঁদের সহযোগী ব্যবসায়ীদের দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, গ্যাস না থাকার বিষয়টি জেনেও দুর্নীতির মাধ্যমে বহু শিল্পকারখানায় সংযোগ দেওয়া হয়েছে, যার ফলেই আজকের সংকট তৈরি হয়েছে।

ফাওজুল কবির বলেন, “গ্যাস খাতের সংকট একদিনে হয়নি। এক শ্রেণির রাজনীতিবিদ এবং তাঁদের সহযোগী ব্যবসায়ীরা আমাদের আজকের অবস্থায় নিয়ে এসেছে। গ্যাস নেই জেনেও সংযোগ দেওয়া হয়েছে—এটা অন্যায় ও দুর্নীতির ফসল।”

তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে অপ্রয়োজনীয় সক্ষমতা বাড়ানো হলেও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়নি। “রাজনীতির প্রভাবে এমন অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে এখন পুরো খাতই চাপের মুখে,” বলেন উপদেষ্টা।

সংকট থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে তিনি জানান, সরকার এলএনজি আমদানি বাড়ানো এবং বাপেক্সের মাধ্যমে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান—এই দুই পথে কাজ করছে। তবে প্রতিবছর গ্যাস উৎপাদন কমছে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট, আর নতুন উৎস থেকে যোগ হচ্ছে মাত্র ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট।

তিনি বলেন, “আমরা বাধ্য হয়েই এলএনজি আমদানি বাড়াচ্ছি, না হলে শিল্প ও রপ্তানি খাত থেমে যাবে।”

এ সময় উপদেষ্টা এলপিজি খাতের উচ্চমূল্য ও তদারকির অভাব নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১২০০ টাকার বেশি হওয়া উচিত নয়। নির্ধারিত দাম না মানলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফাওজুল কবির খান মনে করেন, গ্যাস খাতে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, প্রভাব ও পরিকল্পনাহীনতাই আজকের সংকটের মূল কারণ—আর এর দায় এড়াতে পারে না রাজনীতি ও ব্যবসায়িক স্বার্থের গোষ্ঠীগুলো।

All Categories