দাম কমল এলপিজি সিলিন্ডারে
বাংলাদেশে ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চলতি মার্চ মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৫০ টাকা, যা ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ২৮ টাকা কম। নতুন এই দাম আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হলেও কিছু জায়গায় সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তবে বিইআরসি নিয়মিতভাবে বাজার পরিস্থিতি এবং এলপিজির উপকরণের দাম অনুযায়ী দাম সমন্বয় করে থাকে।
এলপিজির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিইআরসি একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে। বেসরকারি এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১২০ টাকা ৮১ পয়সা, যা গত মাসে ছিল ১২৩ টাকা ১৬ পয়সা। এভাবে, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৬৯০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বিইআরসি জানায়, এলপিজি প্রোপেন ও বিউটেন নামক দুইটি উপাদান দিয়ে তৈরি হয় এবং এই উপাদানগুলি বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। দাম নির্ধারণের সময় সৌদি আরবের আরামকো কোম্পানির প্রকাশিত সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) এর ভিত্তিতে মূল্যের হিসাব করা হয়। এছাড়া আমদানিকারক কোম্পানির চালান মূল্য এবং গড় ডলার বিনিময় হারও বিবেচনায় আনা হয়।
এলপিজির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত গৃহস্থালির কাজের জন্য ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের ওপর প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির বিষয় হতে পারে। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি না হওয়ার বিষয়ে বিইআরসির নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির (অটো গ্যাস) দামও কিছুটা কমানো হয়েছে। নতুন দাম প্রতি লিটার ৬৬ টাকা ৪৩ পয়সা, যা পূর্বে ছিল ৬৭ টাকা ৭৪ পয়সা।
এলপিজির দাম নির্ধারণের বিষয়টি বিইআরসি ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে শুরু করেছে, এবং প্রতি মাসে এটি বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক মূল্যের ভিত্তিতে নতুন মূল্য নির্ধারণ করে।