ডাকসু: নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপা নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন উপাচার্য
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ব্যালট নীলক্ষেতে ছাপানোর বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান। তিনি জানিয়েছেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ব্যস্ততার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নীলক্ষেতে প্রিন্টিং ও কাটিংয়ের বিষয়টি জানাতে ভুলে গিয়েছিল বলে স্বীকার করেছে।
রোববার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য এ কথা জানান। এ সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক জসীম উদ্দিন, রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ও প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে মূল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এতে কোনো আইনের ব্যত্যয় হয়নি। তবে ওই সহযোগী প্রতিষ্ঠান নীলক্ষেতে ব্যালট প্রিন্ট ও কাটিং করেছে, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়কে তা জানায়নি। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ব্যাখ্যা নেওয়া হয়েছে।
তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে ব্যালট ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। রেকর্ডসংখ্যক ভোটার ও প্রার্থীর বিবেচনায় দ্রুত সময়ে ব্যালট প্রস্তুত করতে মূল ভেন্ডরকে সহায়তায় একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে কাজে সম্পৃক্ত করা হয়। পরে নীলক্ষেতে কাটিং শেষে প্রি-স্ক্যান ও অন্যান্য কার্যক্রম শেষে সিলগালা করে ব্যালট সরবরাহ করা হয়।
ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, নীলক্ষেতে ২২ রিম কাগজ ব্যবহার করে ৮৮ হাজার ব্যালট ছাপানো হয়েছিল। এর মধ্যে প্রিন্টিং, কাটিং ও প্রি-স্ক্যান শেষে ৮৬ হাজার ২৪৩টি ব্যালট সরবরাহযোগ্য হয়। অতিরিক্ত ব্যালট প্রচলিত নিয়মে নষ্ট করা হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, ব্যালট ছাপানোর স্থান বা সংখ্যা কোনোভাবেই নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করে না। কারণ, ছাপানো ব্যালট ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করতে একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়। চূড়ান্তভাবে ২ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৪টি ব্যালট প্রস্তুত করা হয়।
তিনি জানান, মোট ভোটার ছিলেন ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। প্রত্যেক ভোটারকে ছয়টি করে ব্যালট দেওয়া হয়। ভোট দিয়েছেন ২৯ হাজার ৮২১ জন, ব্যবহার হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৬টি ব্যালট। অবশিষ্ট ৬০ হাজার ৩১৮টি ব্যালট নষ্ট করা হয়েছে।
অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান আরও বলেন, প্রার্থীরা চাইলে সুনির্দিষ্ট সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ বা ভোটার তালিকার স্বাক্ষর যথাযথ প্রক্রিয়ায় দেখে নিতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মনোনীত বিশেষজ্ঞ বা প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এ সুযোগ দেওয়া হবে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ২৮টি পদের মধ্যে ২৫টিতে জয়ী হয় ছাত্রশিবির ও তাদের সমর্থিত প্রার্থীরা। বাকি তিনটি পদের দুটিতে জয় পান স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং একটি সদস্য পদে নির্বাচিত হন বামপন্থী সাত সংগঠনের প্রতিরোধ পর্ষদের প্রার্থী হেমা চাকমা। অন্যদিকে ছাত্রদল, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ও স্বতন্ত্র প্যানেলের কেউ নির্বাচিত হতে পারেনি। পরাজিতরা নির্বাচন নিয়ে নানা অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে আসছে।