ডাকাত সন্দেহে দু’জনকে পিটিয়ে হত্যা, আহত আরও ৫ জন

শরীয়তপুরে ডাকাত সন্দেহে দু’জন পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসময়  ডাকাত দলের আরও পাঁচ জন আহত হয়েছে। এদিকে ‘ডাকাত’দের গুলিতে আটজন আহত হয়েছে।

পুলিশ বলছে, ডাকাতি করতে গিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় জনতার রোষানলে পড়ে ও পিটুনির শিকার হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনায় ডাকাত দলের ছোড়া গুলিতে আটজন আহত হন। গণপিটুনিতে ডাকাত দলের আরও পাঁচ সদস্য আহত হয়েছে। ওই পাঁচজনকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রাজারচর এলাকায় কীর্তিনাশা নদীতে বালু পরিবহনের নৌযান বাল্কহেডে হানা দেয় ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল। তখন ওই এলাকার নৌযানের শ্রমিকেরা ও স্থানীয় জনতা তাদের ধাওয়া করেন। ওই দলের সদস্যরা গুলি ও ককটেল ছুড়ে স্পিডবোটে করে কীর্তিনাশা নদী দিয়ে পালাতে থাকেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শরীয়তপুরের দাদপুর এলাকা থেকে ডোমসার তেঁতুলিয়া পর্যন্ত কীর্তিনাশা নদীর দুই তীরে ও নদীতে নেমে স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করতে থাকেন। তখন ওই দলের সদস্যরা স্থানীয় মানুষের ওপর গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করেন।

একপর্যায়ে ডোমসার তেঁতুলিয়া এলাকায় নদীতে স্পিডবোট ফেলে একটি ইটভাটায় আশ্রয় নেয় ১০ থেকে ১২ জনের দলটি। স্থানীয় লোকজন ওই ইটভাটা ঘেরাও করে তাদের সাতজনকে আটকে পিটুনি দেন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় মানুষদের সরিয়ে আহত ডাকাতদের উদ্ধার করেন।

রাত একটার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি স্পিডবোট ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে পুলিশ।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মুনতাসির খান বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডাকাতদের গুলিতে আহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দু রাত ১২টার পর তিন দফায় আরও সাতজনকে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে।

শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাতে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রাজারচর এলাকায় ডাকাতির চেষ্টাকালে স্থানীয় লোকজন ডাকাত দলের সদস্যদের ধাওয়া করেন। পালিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাতেরা নিজেদের রক্ষা করতে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। গণপিটুনিতে নিহত দুজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
 

All Categories