চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে গাজাবাসীদের ইফতার বিতরণ

যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজায় পবিত্র মাহে রমজানে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশভিত্তিক সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত সেবা সংস্থা হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি। বাংলাদেশের একমাত্র সংস্থা হিসেবে এটি ফিলিস্তিনে ধারাবাহিক ভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফিলিস্তিনি স্বেচ্ছাসেবক টিমের মাধ্যমে প্রতিদিন গাজার বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েকশ পরিবারের হাজার হাজার সদস্যকে খাবার, পানি, শিশু খাদ্যসহ জরুরি ত্রাণ সরবরাহ করছে এই সংস্থাটি।

এটি শুধু রমজান মাসের ত্রাণ কার্যক্রম নয় বরং গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে যখন ফিলিস্তিনে যুদ্ধ শুরু হয় তখন থেকেই হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি গাজায় নিরবচ্ছিন্নভাবে ত্রাণ বিতরণ করে আসছে। সংস্থাটি গাজার মানুষের খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে তাদের এই মানবিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটির মহাপরিচালক নওমুসলিম মুহাম্মাদ রাজ জানিয়েছেন গাজার সংকট নিরসন না হওয়া পর্যন্ত সংস্থার ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন গাজার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে আমাদের কার্যক্রম একেবারেই তুচ্ছ মনে হয়, কিন্তু যতটুকু সম্ভব আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। গত দুই মাসে যুদ্ধবিরতির নাটক সাজানো হলেও ইসরাইলের আক্রমণ থামেনি, বরং খাদ্য সরবরাহের পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন আহত হয়েছেন লক্ষাধিক। মিশরের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন দেড় লাখেরও বেশি মানুষ।

তিনি আরও বলেন আমরা ৭ মার্চ থেকে দ্বিতীয়বারের মতো মিশর সফর করছি এবং মিশরে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে গাজা ও শরণার্থী শিবিরে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছি।তিনি ধন্যবাদ জানান আল্লাহর প্রতি, যিনি এই কাজের সুযোগ দিয়েছেন।

হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি আরও জানায় গাজাবাসীর খাদ্য, পানি, চিকিৎসা, এবং আশ্রয়ের অভাব রয়েছে। গাজার জন্য অনেক বেশি সাহায্য প্রয়োজন আর তাই মাওলানা ইব্রাহীম খলিল সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন সবাইকে গাজাবাসীদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে তাদের সাহায্য প্রয়োজন। আমাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে তাদের জীবন একটু হলেও স্বাভাবিক হতে পারে।

হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি এই সময়কালীন সংকটের সময়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, এবং গাজার জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার এই প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবী রাখে। সংস্থাটি তাদের মানবিক দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী এবং আশা করে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে যেন গাজার জনগণ এই দুঃসময়ে উপযুক্ত সহায়তা পায়।

All Categories