চট্টগ্রামে ছাত্র জোটের কর্মসূচিতে নারীকে লাথি মারা সেই জামায়াত কর্মী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের কর্মসূচিতে নারী ও এক যুবককে লাথি মারার ঘটনায় আলোচিত বহিষ্কৃত জামায়াত কর্মী আকাশ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে নগরের লালদিঘীর পাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আকাশ চৌধুরীকে লালদিঘীর পাড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আকাশ চৌধুরী চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নেচার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কর্মী ছিলেন এবং সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

গত ২৫ মে চট্টগ্রামের জামালখান এলাকায় বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট একটি সমাবেশ আয়োজন করে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সমাবেশে ‘শাহবাগবিরোধী ঐক্য’র ব্যানারে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। হামলার সময় একজন নারী ও এক যুবককে প্রকাশ্যে লাথি মারেন আকাশ চৌধুরী। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হন।

এর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ব্যানারে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ ওঠে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামী এক বিবৃতি দিয়ে ঘটনার সঙ্গে দলীয় সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে। ৩১ মে রাতে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “সেদিনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় জামায়াতে ইসলামী বহন করবে না।” আকাশ চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথাও জানানো হয় ওই বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "ঘটনার সময় আকাশ চৌধুরী দলীয় কোনো নির্দেশনা ছাড়াই নিজস্ব সিদ্ধান্তে ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, যা শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল এবং চরম নিন্দনীয়।

All Categories