চমকানো তথ্য দিলেন রাষ্ট্রপতি
কালের কন্ঠের সৌজন্যে
হায়দারআলী : আসসালামু আলাইকুম।কেমন আছেনমহামান্য?
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন : সপ্তাহখানেক ধরেভালোআছিবেশ।
হায়দার আলী : তার আগেভালোছিলেননা?
(রাষ্ট্রপতির মুখেরহস্যের হাসি)
হায়দার আলী : অন্তর্বর্তী সরকারের দেড়বছরবঙ্গভবনে আপনারকেমনকেটেছে?
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন : (কিছুক্ষণ নীরব থেকে, তারপরএকটাদীর্ঘশ্বাসনিয়ে) ওইদেড়বছরআমিকোনোআলোচনায় নেইঅথচআমাকেনিয়েচলেনানাচক্রান্ত।
কালের কণ্ঠ : একটু যদিবিস্তারিত বলেন।
রাষ্ট্রপতি : দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা চিরতরে ধ্বংস করারএবংসাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টিকরারঅনেকপাঁয়তারা হয়েছে।
(এটুকু বলেমহামান্য নীরব)।
কালের কণ্ঠ : সেসব কিসফলহয়েছে?
রাষ্ট্রপতি : আমি দৃঢ়চিত্তে আমারসিদ্ধান্তে অবিচলছিলাম।যেকারণেকোনোষড়যন্ত্রই সফলহয়নি।বিশেষকরেঅসাংবিধানিক উপায়েরাষ্ট্রপতিকে উপড়েফেলারঅসংখ্যছকব্যর্থহয়েছে।
ফলেদেড়বছরবঙ্গভবনের অভিজ্ঞতা যেভালো, তাবলাযাবেনা।আমারওপরদিয়েযেঝড়গেছে, এরকমঝড়সহ্যকরারমতোক্ষমতাঅন্যকারোছিলকিনাআমিজানিনা।
কালের কণ্ঠ : আপনার পদত্যাগ দাবিতেবিক্ষোভ হতেদেখেছি। বঙ্গভবন অভিমুখে মিছিলহয়েছে, আন্দোলন হয়েছে।সেপরিস্থিতিতে বঙ্গভবনের ভেতরেরপরিবেশকেমনছিল? আপনারভাবনাকীছিল?
রাষ্ট্রপতি : আমাকে কতভাবেউপড়েফেলারচেষ্টাকরাহয়েছে! কোনোপরিস্থিতিতেই আমিভেঙেপড়িনি।
আমিবলেছি, আমাররক্তঝরেযাবেবঙ্গভবনে। রক্তঝরেঝরুক।আরেকইতিহাসে আমিযোগহব।কিন্তুআমিসাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষাকরব—আমি এই সিদ্ধান্তেই অবিচলছিলাম।আল্লাহর ইচ্ছাআরআমারদৃঢ়তা।
কালের কণ্ঠ : কে বা কাদেরনেতৃত্বে ওইআন্দোলন হয়েছিল? কেনইবাআপনারপ্রতিএতআক্রোশছিলতাদের?
রাষ্ট্রপতি : ২২ অক্টোবর ২০২৪, বঙ্গভবন ঘেরাওহলো।অমুকেরদল, তমুকেরদল, মঞ্চ, ঐক্য—কত কী! রাতারাতি সৃষ্টি! এগুলোএকইটাইপেরলোকজনসববিভিন্ন ফোরামে, বিভিন্ন নামে।কোথায়তারাএতটাকাপেল?
এখানে যখন ঘেরাওকরল, সেনাবাহিনীর নবমডিভিশনথেকেফোর্সএসেতিনস্তরেনিরাপত্তা দিল।তারপরওইযেমেয়েটা, লাফদিয়েকাঁটাতারের বেড়ারওপরেউঠেঝাঁপদেয়।কীআশ্চর্যের ব্যাপার! এগুলোভাড়াটিয়া। তারপরযখনসাউন্ডগ্রেনেড মারাহলো, লাফদিয়েপড়ল।পড়ারপরসেপড়েইথাকবে, ছবিতোলাহবে।সেডাকছেক্যামেরাম্যানকে যেছবিতোলো, ছবিতোলো।মানেএটাদিয়েসেব্ল্যাকমেইল করবে।তারপরতাকেমহিলাপুলিশদিয়েআরমহিলাআর্মিদিয়েটেনেহিঁচড়ে তুলেআর্মিরজিপেকরেনিয়েযায়।
ওই রাতটা আমারজন্যছিলবিভীষিকাময়। এইযেফ্লাইওভার, এইফ্লাইওভার দিয়েওইপেছনে, ওদিকেখালিঠেলাগাড়ি, ভ্যান, কাভার্ড ভ্যানদিয়েচারদিকে ছিন্নমূল লোকজনআসে।গণভবনের মতোবঙ্গভবনও লুটকরতেচেয়েছিল। আমরাতোঘরেইছিলাম।আমাদেরতোআরকিছুনেই, এখানথেকেতোআমিপালাবনা, তাইনা? সেইঅবস্থাযদিহতো, তখনএকটাকথাছিল।তিনস্তরেরনিরাপত্তা দিয়েকভারকরাহয়েছে।সেনাবাহিনী খুবদৃঢ়তারসঙ্গে, আবারএপিসিদিয়েঠেলেপরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
রাত১২টারসময়বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নেতাতখনকারতথ্যউপদেষ্টা নাহিদইসলামফোনকরল, ‘এরকমএকটাখবরপাওয়াগেছে, ওরাআমাদেরলোকনা।আমিএবিষয়েপ্রধানউপদেষ্টার সঙ্গেকথাবলেছি।এগুলোসবআমরাডিসপার্স করারচেষ্টাকরছি।’
তারপর দেখি, হ্যাঁ, কিছুস্থানীয় লোকএসেওদেরনিয়েযায়।কিন্তুকিছুলোকআবারথেকেযায়।তাদেরসরাতেরাত২টাবেজেছে। রাত২টা-৩টা পর্যন্ত আমরাতোজেগেআছি।কিন্তুবিভিন্ন জায়গায়তারামিটিংকরছে- রাষ্ট্রপতির অপসারণচাই, রাষ্ট্রপতির অপসারণচাই।রাজুভাস্কর্যের ওখানে, তারপরবিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন ছোটছোটগ্রুপকরেতারাএটাচায়।
কালের কণ্ঠ : সেই দুঃসময়ে কাউকেপাশেপেয়েছিলেন?
রাষ্ট্রপতি : আমি নির্দ্বিধায় বলতেপারি, ওইকঠিনসময়েওবিএনপির শীর্ষনেতৃত্ব আমারপাশেছিলেন।তাঁরাতখনোসংবিধানের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখারবিষয়টিআমারকাছেস্পষ্টভাষায়ব্যক্তকরেছেন। বিশেষকরেবিএনপির চেয়ারম্যান তারেকরহমানকে ঘিরেআমারমনেরমধ্যেঅনেককৌতূহলজমাছিল।কিন্তুআমিপর্যায়ক্রমে বুঝতেপারলাম, তিনিখুবইআন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ।হিওয়াজসোকর্ডিয়াল! আমারদুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগছিল।
কালের কণ্ঠ : অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরথেকেরাষ্ট্রপতি অপসারণের উদ্যোগকেননেওয়াহয়েছিল, আরকারাএরইন্ধনজুগিয়েছিল বলেমনেকরেন?
রাষ্ট্রপতি : মূলত গণ-অভ্যুত্থানের কিছু নেতার চাপেআমাকেঅপসারণের উদ্যোগনেওয়াহয়।এবিষয়েরাজনৈতিক দলগুলোনিজেদের মধ্যেদীর্ঘআলাপ-আলোচনা করে একটিসিদ্ধান্তে আসে।এমনকিঅন্তর্বর্তী সরকারওএকটাসিদ্ধান্তে এসেছিল। সেটাহলো, যদিরাজনৈতিক দলগুলোচায়আমিঅপসারিত হই, তাহলেইশুধুআমিঅপসারিত হতেপারি; নচেত্নয়।পরেদেখাগেলযেএইইস্যুতে দুটিগ্রুপহয়েগেল।গ্রুপেগ্রুপেমিটিংহলো, আলোচনাহলো।তারাবিভিন্ন দলওজোটেরকাছেগেল।তখনএরকমএকটাঅবস্থাছিল—যেকোনো মুহূর্তে মেজরিটি হয়েগেলেইআমিঅপসারিত হয়েযাববাআমারমনস্তাত্ত্বিক দিকভেঙেযাবে।তখনতারাআমাকেঅনুরোধকরবেপদত্যাগের জন্য।
কিন্তু বিএনপি থেকেউচ্চপদে আসীননেতাআমাকেআশ্বস্ত করেবলেছিলেন যে, ‘আপনারপ্রতিআমাদেরসমর্থনআছে।আমরাসাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতেচাই।কোনোঅসাংবিধানিক উপায়েরাষ্ট্রপতিকে অপসারণের পক্ষেআমরানই।
আমিবলবযেবিএনপিওতাদেরজোটসঙ্গীরা একটাগ্রুপহয়েযায়।আরআরেকটাগ্রুপহয়েযায়, তাদেরআপনারাসবাইচেনেন।তবেতারাশেষপর্যন্ত সফলহয়নি।উদ্যোগটা ব্যর্থহলোবিএনপিওতাদেরজোটেরকারণে।একটাবৃহত্তর রাজনৈতিক দলযেস্ট্যান্ডটা নিয়েছে, সেটাকেসরকারতখনসমর্থনকরতেবাধ্যহলো।
ওটা সবচেয়ে বড়মুভছিলআমাকেঅপসারণকরার।মানে, তারাএতবেশিচ্যালেঞ্জিং ভাবনারমধ্যেছিলযেএকটাহেস্তনেস্ত করেইছাড়বে।যারফলেরাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেবসা, কথাবলা—এসব সযত্নে তারাকরেছে।এইআলাপটাকে তারাইতিবাচক দিকেনিয়েযেতেপারবে—সেই বিশ্বাসটা তাদেরমধ্যেছিল।যারফলেতারাবিভিন্নভাবে প্রতিদিন টাইমদিয়ে, সময়করেবিভিন্ন দলেরকাছেযাওয়া, তাদেরসঙ্গেকথাবলা, বেরহয়েএসেসাংবাদিকদের ফেসকরা; এইসবকাজইকিন্তুহয়েগেছেএরমধ্যে।আমিওঅত্যন্ত উদ্বিগ্নভাবে লক্ষকরছি—দেখা যাক না, কীহয়! একসময়দেখাগেলযেআপনা-আপনিই এটা নীরবহয়েগেল; আরএগোতেপারলনা।তাতেবোঝাগেলযেএটাহবেনা।
কালের কণ্ঠ : এরপর নতুনকরেআরকোনোউদ্যোগছিলআপনারবিষয়ে?
রাষ্ট্রপতি : হ্যাঁ, বলতেগেলেশেষসময়পর্যন্ত তারাচেষ্টাকরেগেছে—কিভাবে আমাকে উপড়েফেলাযায়।রাজনৈতিক পর্যায়থেকেওইউদ্যোগটা ব্যর্থহলেখোদঅন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষথেকেইনতুনকরেএবিষয়েপদক্ষেপ নেওয়াহয়।আজকেবলতেদ্বিধানেইযেএকটাঅসাংবিধানিক উপায়েএকজনসাবেকপ্রধানবিচারপতিকে নিয়েএসেআমারজায়গায়বসানোরচক্রান্ত করেছেঅন্তর্বর্তী সরকার।এইমুভটাহয়েছে।
আমি বিষয়টি জেনেছি। সরকারের পক্ষথেকেএকজনউপদেষ্টা ওইবিচারপতির শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তাঁরাঘণ্টাব্যাপী মিটিংকরেন।তবেওইবিচারপতি রাজিহননি।উনিসাফবলেদিয়েছিলেন, ‘উনিরাষ্ট্রপতি, উনিসবারঊর্ধ্বে সাংবিধানিকভাবে, সবকিছুর ওপরে।ওইজায়গায়আমিঅসাংবিধানিকভাবে বসতেপারিনা।’ ওইবিচারপতির দৃঢ়তারকারণেশেষপর্যন্ত সরকারের ওইউদ্যোগও ব্যর্থহয়।
কালের কণ্ঠ : আপনি কিভাবেবিষয়গুলো জানতেপারলেন?
রাষ্ট্রপতি : আমি তোবিচারবিভাগের লোক।বিচারবিভাগতোউনারআশপাশেআছেসব।আমিসেভাবেই বিষয়টিজেনেযাই।
কালের কণ্ঠ : আপনার সেইদৃঢ়মনোবলের নেপথ্যে কীছিল? কেউকিআপনাকেসাহসজুগিয়েছিল?
রাষ্ট্রপতি : সত্যি বলতে, একাআমারপক্ষেমনোবলঠিকরাখাকঠিনহতো, যদিনাঅনেকেরআশ্বাসবাঅভয়বাণীনাপেতাম।বিশেষকরেবিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়থেকেআমাকেএইবলেআশ্বস্ত করেছিলযেআমিযেনসাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায়অবিচলথাকি।কোনোঅবৈধউপায়েরাষ্ট্রপতি অপসারণের পক্ষেতারানয়।
এ ছাড়া তিনবাহিনীর পক্ষথেকেআমাকেসর্বোচ্চ সমর্থনদিয়েছে। তারাশুধুএকটাকথাইবলেছে, ‘মহামান্য, আপনিহচ্ছেনসশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। আপনারপরাজিতহওয়ামানেপুরোসশস্ত্র বাহিনীরই পরাজিতহওয়া।এটাআমরাযেকোনোমূল্যেরোধকরব।’ শেষপর্যন্ত তারাএটাকরেছে।তারাবিভিন্ন সময়আমারকাছেএসেআমাকেমনোবলদিয়েছে। শুধুতাইনয়, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরথেকেআরেকবার আমাকেঅপসারণের উদ্যোগনেওয়াহয়েছিলবলেশুনেছি। তখনোতিনবাহিনীর প্রধানরা আমারপক্ষেঅবস্থান নেন।তাঁরাতাঁদেরএইঅভিমতঅন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকেও গিয়েজানানযেকোনোঅসাংবিধানিক কর্মকাণ্ড তাঁরাহতেদেবেননা।বঙ্গভবনের সামনেযখনমবসৃষ্টিকরাহয়, তখনোসশস্ত্র বাহিনীওইঅবস্থান নিয়েছিযোন্যকালের কণ্ঠ : এ বিষয়েআপনিঅন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানউপদেষ্টার সঙ্গেযোগাযোগ করেছিলেন কি? অথবাসেইদিকথেকেআপনারসঙ্গেকোনোযোগাযোগ হয়েছিলকি?
রাষ্ট্রপতি : ওই পরিস্থিতিতে ড. ইউনূসের কাছথেকেকোনোফোনপাইনি।আমারপক্ষেবাবিপক্ষে কোনোঅবস্থানেই তিনিছিলেননা।অবশ্যউনাকেওআমিসাহায্য চেয়েকোনোআবদারকরিনি।আমারমনোভাবছিল, যাহচ্ছেহতেথাকুক, দেখাযাককতদূরগড়ায়।তবেআমিএটুকুবলতেপারিযে, কূটনৈতিক মহলথেকেওআমাকেঅপসারণকরারবিষয়েনেতিবাচক অবস্থান ছিল।আমিএভাবেঅসাংবিধানিক ওবেআইনিভাবে অপসারিত হই, সেটাতারাওচায়নি।এটাওবড়শক্তিছিল।তবেআমিসবসময়স্বীকার করিযেবিএনপিএবংতারজোটঅন্যেরপ্ররোচনায় প্রলুব্ধ হয়নি।তারানিজেদের সিদ্ধান্তে অটলছিল।
কালের কণ্ঠ : রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রধানউপদেষ্টা আপনারসঙ্গেকোনোসমন্বয়করেছিলেন? আপনারকাছেতিনিকতবারএসেছিলেন? তাঁরআমলে১৩৩টিঅধ্যাদেশ জারিহয়েছে।সেগুলোর বিষয়েআপনিঅবগতছিলেনবাআপনাকেজানানোহয়েছে?
রাষ্ট্রপতি : তখন যতগুলোঅধ্যাদেশ জারিকরাহয়েছে, সেগুলোহয়তোতৎকালীন সময়েরপ্রয়োজনীয়তার জন্যইহয়েছে।তারপরওআমারদৃষ্টিতে মনেহয়েছে, অনেকঅধ্যাদেশ করারকোনোকারণছিলনা।প্রধানউপদেষ্টা সংবিধানের কোনোবিধানমেনেচলেননি। সংবিধানে বলাআছে, উনিযখনইবিদেশসফরেযাবেন, সেখানথেকেফিরেএসেরাষ্ট্রপতির সঙ্গেদেখাকরবেনএবংআমাকেওইআউটপুটটা জানাবেন। কীআলোচনাহলো, কীহলো, কোনোচুক্তিহলোকিনা, কীধরনেরকথাবার্তা হলো, এটাআমাকেলিখিতভাবে অবহিতকরারকথা।তো, উনিতোবোধহয়১৪থেকে১৫বারবিদেশসফরেগেছেন।একবারওআমাকেজানাননাই।একবারওআমারকাছেআসেননি।
কালের কণ্ঠ : তার মানেনির্বাচনের আগেসর্বশেষ যেচুক্তিটি হয়েছেযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে, সেবিষয়েওআপনিঅবগতনন?
রাষ্ট্রপতি : না, কোনোকিছুইআমিজানিনা।এরকমরাষ্ট্রীয় একটাচুক্তিঅবশ্যইআমাকেজানানোদরকারছিল।এটাছোটখাটো হোকআরবড়কিছুহোক, অবশ্যইপূর্ববর্তী সরকারপ্রধানরা রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছেন। আরএটিহলোসাংবিধানিক একটাবাধ্যবাধকতা। কিন্তুতিনিতোতাকরেননি। মৌখিকভাবেও জানাননি, লিখিতভাবেও জানাননি। আসেনওনি। আরএমনিতেই তোউনারআসারকথা!
কালের কণ্ঠ : তার মানে, গতদেড়বছরেপ্রধানউপদেষ্টার সঙ্গেআপনারস্বাভাবিক সম্পর্ক ছিলনা? সমন্বয়ও ছিলনা?
রাষ্ট্রপতি : উনি যেপ্রধানউপদেষ্টা হলেন, সেইপ্রক্রিয়ার উৎসইছিলামআমি।অর্থাত্, আমারউদ্যোগেই এইসরকারগঠনেরপ্রক্রিয়াটি শুরুহয়।কিন্তুপ্রধানউপদেষ্টা পরবর্তী সময়েআমারসঙ্গেসেভাবেসমন্বয়করেননি। এটিআসলেবোঝানোর কোনোউপায়ওনেই।কেননাতিনিএকটিবারের জন্যওআমারকাছেআসেননি। আমাকেসম্পূর্ণভাবে আড়ালেরাখারচেষ্টাকরেগেছেন।আমারদুইবারবিদেশসফরউনিআটকেদিয়েছেন। একটাছিলকসোভো।গতডিসেম্বরের ঘটনা।সেখানথেকেরাষ্ট্রপতিকে দাওয়াতদেওয়াহয়েছিলকি-নোট পেপার ওখানেএকটাঅ্যাসেম্বলিতে পড়ারজন্য।কিন্তুআমাকেযেতেদেওয়াহয়নি।
তারপরকাতারের আমিরআমাকেদাওয়াতকরলওখানেএকটাসামিটেঅংশগ্রহণের জন্য।রাষ্ট্রপতি অ্যাড্রেস করবেন।সেইসেমিনারে রাষ্ট্রপতি ছাড়াআরকেউথাকবেনা।তখনআমারকাছেপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেআমাকেএকটিচিঠিদেওয়াহলো।চিঠিটিবানিয়েদেওয়াহলো, তারাইড্রাফটকরল।ড্রাফটকরেআমারকাছেপাঠায়।আরওইদাওয়াতপত্রটাও পাঠায়।চিঠিটার মধ্যেছিলযে, আমিরাষ্ট্রীয় কাজেভীষণব্যস্ত। সুতরাংএইসেমিনারে অংশগ্রহণ করাআমারপক্ষেসম্ভবনা।আমিদুঃখিত। ওইচিঠিতেআমিযেনসইকরেদিই।
কালের কণ্ঠ : এই চিঠিটালেখারসময়আপনারসঙ্গেকোনোআলোচনাহয়েছে?
রাষ্ট্রপতি : না, সেটাইতোবলছি।আমারসঙ্গেকোনোপরামর্শ করাহয়নি, আমাকেজানানোও হয়নি।চিঠিটাদেওয়ারপরআমরাজানলামযে, এরকমএকটাদাওয়াতএসেছিল।
কালের কণ্ঠ : আপনি কিসত্যিইরাষ্ট্রীয় জরুরিকাজেব্যস্তছিলেন?
রাষ্ট্রপতি : (হেসে) একজন রাষ্ট্রপতি কিএতবেশিব্যস্তথাকে, আমাদেরসংবিধানের আলোকে? যাইহোক, পরেআমিওইচিঠিতেএকটিপ্রশ্নবোধক চিহ্নদিয়েপাল্টাএকটিচিঠিপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাই।তাতেআমিপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমনশিষ্টাচারবহির্ভূত ওঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণেরতীব্রনিন্দাজানাই।ভবিষ্যতে যাতেএইধরনেরঅপরাধনাকরাহয়, সেবিষয়েপররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে চিঠিদিই।ওইচিঠিরজবাবেতারানিরুত্তর ছিল।তবেএরপরআরকোনোদেশথেকেআমন্ত্রণ এসেছিলকিনা, সেবিষয়েজানারসুযোগওহয়নি।
কালের কণ্ঠ : কেন আপনাকেবিদেশসফরেযেতেদেওয়াহয়নিবলেমনেকরেন?
রাষ্ট্রপতি : মূলত ওইসরকারচায়নিকোথাওআমারনামআসুক।আমাকেএকদমঅন্ধকারে ফেলেরাখারচেষ্টাকরেছে।তারাচায়নিজনগণআমাকেচিনুক, জানুক।এটিআমাকেখুবইকষ্টদিয়েছে। শুধুবিদেশেনয়, দেশেরকোনোঅনুষ্ঠানেও আমাকেযেতেদেয়নি।বিশেষকরে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রীতিঅনুযায়ী রাষ্ট্রপতির যাওয়ারকথা।সেটিওতারাআটকেদেয়।
তারপরদেখেন, আরেকটিঘটনাআমাকেঅপমানকরারজন্য।একদিনহঠাৎকরেকোনোএকজনউপদেষ্টা বিদেশভ্রমণেগেছেন।সেখানেবাংলাদেশ হাইকমিশনে আমারছবিটালাগানোআছে।সারাবিশ্বেবাংলাদেশের কনস্যুলেট থেকেশুরুকরেহাইকমিশন—সবজায়গায়রাষ্ট্রপতির ছবিথাকে।কারণস্টেটকে রিপ্রেজেন্ট করেরাষ্ট্রপতি। এটাবছরেরপরবছরধরেচলেআসছে।কোনোএকজনউপদেষ্টা তিনিবিদেশেগিয়েআমারছবিটাদেখেছেন। দেখেওখানেইকনস্যুলেটের প্রধানকে গালিগালাজ করেছেন, এইছবিএভাবেথাকবেকেন? তারপরএকরাতেরমধ্যেসারাপৃথিবীর সবহাইকমিশন থেকেআমারছবিনামিয়েদেওয়াহলো।দীর্ঘদিনের একটারেওয়াজরাতারাতি শেষকরেদেওয়াহলো।ওইঘটনাটিগণমাধ্যমে এলেআমিজানতেপারি।তখনআমারমনেহয়েছেযেএটিবোধহয়আমাকেঅপসারণের প্রথমধাপ।সুতরাংপরবর্তী ধাপেহয়তোআমাকেসরিয়েদেবে।এজন্যআমাকেপ্রস্তুত থাকতেহবে।
এ ছাড়া জনগণেরমধ্যেওতোএকটাবিরূপবার্তাযায়যেউনাকেরাখাহচ্ছেনা।এধরনেরকাজওহয়েছে।তা-ও তো সহ্যকরে, দৃঢ়তারসঙ্গেআমিথেকেছি, শুধুসাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায়রাখারজন্য।
কালের কণ্ঠ : ওই ঘটনায়কোনোপ্রতিবাদ করেননি?
রাষ্ট্রপতি : আমি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবরএকটিচিঠিদিয়েছিলাম। আমারমনেরক্ষোভসেইচিঠিরমধ্যেবর্ণনাকরেছি।তো, ওইচিঠিপেয়েপররাষ্ট্র উপদেষ্টা একটুচুপচাপ। সাংবাদিকরা প্রশ্নকরলেবলছে, এটাঅনেকবড়বিষয়।আমিএবিষয়েআরকথাবলতেচাইনা।নীরবছিল।
কালের কণ্ঠ : আর কোনোঘটনারকথাবলবেন?
রাষ্ট্রপতি : একবার ঢাকারিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচনে জেতারপরপুরোকমিটিরসদস্যরা আমারসঙ্গেসৌজন্যসাক্ষাৎ করতেএলেন।আমিসাংবাদিকবান্ধব মানুষহিসেবেতাঁদেরসঙ্গেদেখাকরি।খুবইসাধারণএকটাসাক্ষাৎ ছিল।আমাদেরমধ্যেসামান্য কথাবার্তা হয়েছিল, তারপরফটোসেশন হয়।ওইঘটনাপরদিনকয়েকটিপত্রিকায় প্রকাশহলেপ্রধানউপদেষ্টার প্রেসউইংতাস্বাভাবিকভাবে নেয়নি।জোরকরেউনারাখুঁজতেথাকলযেবঙ্গভবনের প্রেসউইংয়েরকেএইকাজটাকরেছে।আসলেপ্রেসউইংয়েরকেউতোএইকাজকরেনি।আমিনিজেইসাংবাদিকদের চিঠিপেয়েতাঁদেরআসতেবলেছিলাম। কিন্তুতাঁরাঅত্যন্ত নির্লজ্জভাবে তিনটামানুষকে এখানথেকেঅপসারণকরেনিয়েগেল।প্রেসসেক্রেটারি, ডেপুটিপ্রেসসেক্রেটারি এবংঅ্যাসিস্ট্যান্ট প্রেসসেক্রেটারি—তিনজনকেই নিয়েগেল।পুরোউইংটাইপ্রত্যাহার করেনিয়েগেল।
কালের কণ্ঠ : আপনার এখনকোনোপ্রেসউইংনেই?
রাষ্ট্রপতি : না। তিনজনকেই নিয়েগেছে।এমনকিদুজনফটোগ্রাফার ছিল, যারা৩০বছরএখানেকাজকরছিলফটোগ্রাফার হিসেবে, তাদেরওপ্রত্যাহার করেনিয়েগেল।প্রেসউইংএকদমনিলকরেদিল।আমরাএখানথেকেকোনোপ্রেসরিলিজদিতেপারিনা।বাংলাদেশের ক্রিকেট টিমকোথাওজিতলেঅভিনন্দন জানিয়েযেএকটাপ্রেসরিলিজদেব, সেটাওপারিনা।একদমপ্রতিবন্ধী করেদিল।আমিরাষ্ট্রপতি হয়েনিজেক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে বারবারফোনকরেছি, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে ফোনকরেছি, এস্টাবলিশমেন্ট সেক্রেটারিকে ফোনকরেছি।কেউইপাত্তাদেয়নি।
এসব করা হয়েছেবাংলাদেশের জনগণেরকাছেআমারএক্সপোজারটা বন্ধকরারজন্য।এইযেদেশেরবিভিন্ন জাতীয়গুরুত্বপূর্ণ দিবসগুলোতে রাষ্ট্রীয় ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়, সেখানেরাষ্ট্রপতির ছবিওবাণীদেওয়াবন্ধকরেদেয়অন্তর্বর্তী সরকার।ক্রোড়পত্র ঠিকইপ্রকাশিত হয়।তাতেআমারবাণীদেয়না।আপনারাখোঁজনিয়েদেখেন, গতদেড়বছরেআমারকোনোবাণীগেছেকিনা।আগামীকালই (শনিবার) ইনশাআল্লাহ একুশেফেব্রুয়ারিতে হয়তোআমারবাণীআসবে।