চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারবেন না ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা
ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা আর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারবেন না। এখন থেকে তাঁদের ই-মেইলের মাধ্যমে চিকিৎসকদের কাছে ওষুধসংক্রান্ত তথ্য পাঠাতে হবে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে গঠিত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে এমন সুপারিশ করা হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেয় স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিকিৎসকের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সরাসরি সাক্ষাৎ অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব তৈরি করে। চিকিৎসার স্বচ্ছতা ও নৈতিক মান রক্ষা করতে এই ধরনের সাক্ষাৎ সীমিত করতে হবে। এর পরিবর্তে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ওষুধের তথ্য জানাতে হবে। চিকিৎসকেরা চাইলে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আলোচনার সুযোগ দিতে পারেন।
কমিশন তাদের প্রতিবেদনে আরও সুপারিশ করেছে, চিকিৎসকদের পেশাগত মানদণ্ড ও রোগীর স্বার্থ রক্ষায় একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় এই যোগাযোগব্যবস্থা পরিচালিত হবে।
কমিশনের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাতে সাতটি নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আইনগুলো হলো:
বাংলাদেশ স্বাস্থ্য কমিশন আইন, বাংলাদেশ হেলথ সার্ভিস আইন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আইন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ ও প্রবেশাধিকার আইন, অ্যালায়েড হেলথ প্রফেশনাল কমিশনার আইন, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কমিশনার আইন
গত বছরের ১৭ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের জন্য ১২ সদস্যের একটি কমিশন গঠন করে। এতে সভাপতি করা হয় বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খানকে।
কমিশনের অন্যান্য সদস্য হলেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাকির হোসেন, অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী, অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার, অধ্যাপক ডা. নায়লা জামান খান, সাবেক সচিব এস এম রেজা, অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক, ডা. আজহারুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক, ডা. আহমেদ এহসানুর রাহমান এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী উমায়ের আফিফ।