ছেলের ‘মিথ্যা’ মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য বিএনপি অফিসে অভিনেত্রী রিনা খান

ছেলের ‘মিথ্যা’ মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য বিএনপি অফিসে অভিনেত্রী রিনা খান

চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খলনায়িকা রিনা খান। একসময় বড় পর্দায় নিয়মিত দেখা মিললেও এখন আর সেভাবে আলোচনায় নেই তিনি। নিজেই জানালেন কারণ—তিনি বিএনপি করেন বলেই গত এক যুগ ধরে তাঁকে পড়তে হয়েছে রাজনৈতিক হয়রানির মুখে। শুধু তাই নয়, তাঁর জার্মানপ্রবাসী ছেলের বিরুদ্ধেও করা হয়েছে ‘মিথ্যা মামলা’। সেই মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানাতে বিএনপি কার্যালয়ে হাজির হয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে দেখা করে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি আবেদনপত্র জমা দেন রিনা খান। ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপি করি বলেই আজ আমার এই অবস্থা। আমি জিসাস (জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভানেত্রী। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন আমরা নতুন করে বাঁচার সুযোগ পেয়েছি।

ভিডিওবার্তায় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রিনা খান আরও বলেন, ‘আমি একটি নির্যাতিত সন্তানের মা। আমার বড় ছেলে ২০০৯ সালে জার্মানি চলে যায়। অথচ তাঁর নামেও মামলা হয়েছে। এমনকি গ্রেপ্তারের জন্য ওয়ারেন্টও জারি করা হয়েছিল। আমার ছোট ছেলের পেছনেও পুলিশ লেগে ছিল। আমি বিটিভির কোনো অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারতাম না। ঘর থেকেও বের হতে ভয় পেতাম।’

তিনি বলেন, ‘আজকে মামলার অব্যাহতির আবেদন করেছি। আমাদের সালাহউদ্দিন সাহেব অনেক সময় দিয়েছেন। দলের অনেকেই সহায়তা করছেন। খুশিতে আমার কান্না চলে আসছে।

রিনা খানের প্রকৃত নাম সেলিমা সুলতানা। ১৯৮২ সালে সুভাস দত্ত পরিচালিত ‘সোহাগ মিলন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। খলচরিত্রে অভিনয় করেই তিনি অধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তবে কিছু ইতিবাচক চরিত্রেও দক্ষ অভিনয় উপহার দিয়েছেন তিনি। দর্শকের কাছে তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয় আশির দশক থেকেই।

রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে গত কয়েক বছর ধরে চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে ছিটকে পড়লেও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় রয়েছেন রিনা খান। বর্তমানে জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

এখন মামলা থেকে অব্যাহতি পেলে আবারও নতুন উদ্যমে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এই গুণী অভিনেত্রী।

All Categories