চাঁদাবাজি রোধে জিরো টলারেন্স, তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তারেক রহমান

চাঁদাবাজি রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। সরকার চাঁদাবাজি কোনোভাবেই সহ্য করবে না এমন বার্তা দিতে পারলে এই সমস্যা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউয়ের মেজবান হলে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

চট্টগ্রাম ও আশপাশের ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৪০ জন শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা সরাসরি তারেক রহমানকে প্রশ্ন করেন। তিনি মঞ্চে ঘুরে ঘুরে প্রশ্ন গ্রহণ করেন এবং জবাব দেন।

অনুষ্ঠানে এক শিক্ষার্থী তৃণমূল পর্যায়ে চাঁদাবাজির সমস্যা ও এর সমাধান নিয়ে প্রশ্ন করলে তারেক রহমান বলেন, এই সমস্যার পেছনে পেশাদার অপরাধীদের পাশাপাশি বেকারত্বও বড় ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে কোনো পরিকল্পনাই কার্যকর হবে না। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এই দুই বিষয় একসঙ্গে সমাধান করতে হবে।

চাঁদাবাজদের দুই ভাগে ভাগ করে তারেক রহমান বলেন, এক শ্রেণির মানুষ বেকারত্বের কারণে এই কাজে জড়িয়ে পড়ে। আরেক শ্রেণি পেশাদার অপরাধী, যারা এটিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে।

তিনি বলেন, পেশাদার অপরাধীদের ক্ষেত্রে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে। সরকার থেকে স্পষ্ট বার্তা গেলে যে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি সহ্য করা হবে না, তাহলেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

ছোট উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশে ব্যাংকঋণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। সরকার গঠন করলে আইন সহজ করে উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা হবে। পাশাপাশি আর্থিক সংকটে বিদেশে পড়তে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট লোন’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

দেশের জনশক্তির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর বাংলাদেশে তরুণ জনশক্তির বড় সুবিধা থাকবে। এই কর্মশক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমির অধিকার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে ধর্ম কিংবা পাহাড়-সমতলের কোনো ভেদাভেদ ছিল না। ভবিষ্যতেও মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই সবাই সমান সুযোগ পাবে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এ সমস্যা সমাধানে খাল খননের বিকল্প নেই। সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি নগরীর রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন।

All Categories