চাঁদাবাজি ইস্যুতে বিএনপিকে ভোটের মাঠে পরাস্তর কৌশল
চাঁদাবাজি ইস্যু নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছে, তা আগামী নির্বাচনে তাদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে। জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি (জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অভ্যুত্থানবাদী শাখা) সহ প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো সরব হয়ে উঠেছে এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করছে। তারা চেষ্টা করছে বিএনপিকে নির্বাচনের মাঠে চাপে ফেলে, তাদের বিরুদ্ধে এক ধরনের অপবাদ চাপিয়ে দিয়ে তাদের দুর্বলতা প্রকাশ করতে।
বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিকবার চাঁদাবাজি, দখল, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নানা ধরনের অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। দলের তৃণমূল নেতারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে এসব বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, এর ফলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতারা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে বিএনপির নেতারা এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে অস্বীকার করে বলেন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি ইস্যুতে তারা সোচ্চার। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, "বিএনপি কখনও চাঁদাবাজি বা দুর্নীতি সমর্থন করে না এবং যারা এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" দলের নেতারা আরও জানান, কেউ যদি দলের নীতির বিপরীত কিছু করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
জামায়াত এবং এনসিপি নেতা-নেত্রীরা চাঁদাবাজি ইস্যুতে সরকার ও বিএনপিকে একই রকম অভিযুক্ত করছেন। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "চাঁদাবাজি আল্লাহর দৃষ্টিতে হারাম, তাই চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।" এনসিপির নেতাও একইভাবে অভিযোগ করেছেন, "আওয়ামী লীগের পর, এখন বিএনপি চাঁদাবাজির পথ অনুসরণ করছে।" তারা চেষ্টা করছে এই অভিযোগকে নির্বাচনের বড় ইস্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে।
বিএনপির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং অতিরঞ্জিত বলে দাবি করা হচ্ছে। দলের নেতারা বলছেন, চাঁদাবাজির বিষয়টি নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে প্রচারিত হচ্ছে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “এটি একটি সুস্পষ্ট ষড়যন্ত্র, যা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য করা হচ্ছে।”
তবে বিএনপির মধ্যে কিছু নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখল ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় দলের ভিতরে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। তৃণমূল নেতারা দাবি করেছেন, এসব ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে এবং ভোটের মাঠে বিএনপির জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সম্প্রতি ৫ আগস্টের পর বিএনপির তিন হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং চাঁদাবাজি ও দখলসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম পিন্টু এবং তার সহযোগীরা চাঁদাবাজি করার চেষ্টা করে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে যুবদল তাকে বহিষ্কার করে এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। জামায়াতের নেতারা এ ঘটনার সমালোচনা করেছেন এবং বিএনপির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন।
বিএনপি নেতারা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “দলের মধ্যে যারা অপকর্ম করছেন, তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ছড়ানো হচ্ছে।”
এনসিপি এবং জামায়াতের নেতারা চাঁদাবাজি ইস্যু নিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতি ইস্যুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। জনমত জরিপে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপির জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এনসিপি এবং জামায়াত তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে চাচ্ছে। তারা চাঁদাবাজি, দখল এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের কণ্ঠ তুলে জনগণের মাঝে একটি পরিষ্কার বার্তা দিতে চায়। এটি বিএনপির জন্য নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় একটি বড় আঘাত হয়ে উঠতে পারে।
চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতি ইস্যুতে বিএনপির বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগ, তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এ ইস্যুকে কাজে লাগানোর জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছে।