"ব্যাংক লেনদেনের ৮৪ শতাংশ এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে"

বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে লেনদেনের ৮৪ শতাংশই ডিজিটালি পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশ লেনদেন হয়ে থাকে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এবং ২৮ শতাংশ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে। এছাড়া, ডিজিটাল লেনদেনের ৬৯ শতাংশ রিয়েল-টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সিস্টেমে সম্পন্ন হয়, এবং ১১.৯২ শতাংশ লেনদেন ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট আয়োজিত ‘ট্রান্সফর্মিং দ্য পেমেন্ট ল্যান্ডস্কেপ: অ্যান ইরা অব ইভ্যুলিউশন’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচমনসুর। অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সহ আরও অনেক কর্মকর্তা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন আরটিজিএস সিস্টেমের সংস্করণ চালু করার ঘোষণা দিয়েছে, যা আরও আধুনিকএবং সুবিধাজনক হবে। নতুন সংস্করণে আরটিজিএস সিস্টেমে এখন সপ্তাহের সাতদিন লেনদেন পরিচালনা করা যাবে, যা আগে শুধুমাত্র ব্যাংকিং দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এটি বাংলাদেশের আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও সুষ্ঠু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে এই সিস্টেমে সাতটি মুদ্রায় লেনদেন করা যায়, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশি টাকা, মার্কিন ডলার এবং ব্রিটিশ পাউন্ড। বর্তমানে ১১,৪৭০ টি অনলাইন ব্যাংক শাখা আরটিজিএস নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত রয়েছে এবং এটি প্রতিদিন ৪৮,৪১০ টি লেনদেন সম্পন্ন করে, যার গড় দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২,৯৭৭ কোটি টাকা।

এছাড়াও, অনুষ্ঠানে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রধানচ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, ব্যবহার কারীদের অসচ্ছলতা, সঠিক তথ্যের তত্ত্বাবধানের অভাব, জালিয়াতি ও প্রতারণা এবংনতুন স্টার্টআপ ও ফিনটেক কোম্পানির জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা।বিশেষ করে, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য আরও পদক্ষেপ নিতে হবে।

ডিজিটাল  পেমেন্ট সিস্টেমের নিরাপত্তা এবং সিস্টেমের প্রসারের প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল পরিবর্তনগুলো আরও দ্রুত বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচমনসুর বলেন, “বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অর্জন অত্যন্ত গর্বের বিষয় এবং আমরা সবাই এই অর্জন নিয়ে গর্বিত। এর জন্য দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।” তিনি আরও বলেন, "২০১৫সালে সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান আরটিজিএস সিস্টেম চালু করার পর এটি খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি, কিন্তু আজ এটি আর্থিক লেনদেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।"

বাংলাদেশ ব্যাংক এই ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং খাতে আধুনিকায়ন ওস্ব চ্ছতা নিয়ে আসার চেষ্টা করছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে।

বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের অগ্রগতি এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। এর মাধ্যমে লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আরও কাজ করছে যেন ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের বিস্তার ও প্রসার আরও ত্বরান্বিত হয় এবং দেশের আর্থিক খাতের দুর্বলতা গুলি কাটিয়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক ভবিষ্যতে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

All Categories