বড় পর্দায় সাবিলা- ফারিণের শুভ সূচনা
ছোট পর্দায় তারা পরিচিত মুখ। নাটক ও ওটিটিতে দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের উপস্থিতি আর অভিনয়ের দক্ষতায় নতুন প্রজন্মের ভরসার নাম হয়ে উঠেছেন তাসনিয়া ফারিণ ও সাবিলা নূর। তবে এবারের ঈদুল আজহা তাঁদের জন্য ছিল এক নতুন বাঁক। প্রথমবারের মতো বড় পর্দায় বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন এই দুই অভিনয়শিল্পী।
সাবিলা নূর অভিনয় করেছেন রায়হান রাফীর আলোচিত ছবি ‘তাণ্ডব’-এ, যেখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন ঢালিউডের শীর্ষ তারকা শাকিব খান। অন্যদিকে সঞ্জয় সমদ্দার পরিচালিত ‘ইনসাফ’ ছবিতে শরিফুল রাজের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন তাসনিয়া ফারিণ। দুই ছবিই ছিল ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত আলোচিত সিনেমার তালিকায়।
সাবিলার চমক
তাণ্ডব ছবিতে সাবিলা নূরের উপস্থিতি নিয়ে মুক্তির আগেই গুঞ্জন ছিল। তবে তিনি ছিলেন চুপ। প্রযোজনা সংস্থার অনুরোধে নিজেই এই বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। মুক্তির আগে গান ‘লিচুর বাগানে’ প্রকাশের পর তাঁর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। এরপর থেকেই দর্শকের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।
সাবিলা বলেন, ‘শাকিব খানের সঙ্গে প্রথম কাজ, আবার রাফী ভাইয়ের পরিচালনায় প্রথম সিনেমা—সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটা ছিল দারুণ। আমি খুব ভালো একটা টিম পেয়েছি, যাঁরা আমাকে সহযোগিতা করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা, আমি কাজটা উপভোগ করেছি।’
চলচ্চিত্রে সাবিলার আত্মপ্রকাশ হয়েছে প্রাণবন্ত এক চরিত্রে। গানের সঙ্গে তাঁর সাবলীল নাচ, সংলাপ বলার ভঙ্গি এবং পর্দায় উপস্থিতি দেখে বোঝার উপায় নেই—এটাই তাঁর প্রথম সিনেমা।
ইনসাফ’-এ সাহসী ফারিণ
আরও একধরনের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছেন তাসনিয়া ফারিণ। ‘ইনসাফ’ ছবিতে তাঁকে দেখা গেছে একদমই নতুন এক রূপে। ছোট পর্দায় সংবেদনশীল, আবেগময় চরিত্রে যিনি পরিচিত, এবার বড় পর্দায় আইটেম গানে পারফর্ম করতেও দেখা গেল তাঁকে। গান ‘আকাশেতে লক্ষ তারা’–তে ফারিণের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি চোখে পড়েছে অনেকেরই।
তাঁর ভাষ্যে, ‘আমি সব সময় চেয়েছি নিজেকে নতুন জায়গায় দেখতে। “ইনসাফ” সে রকমই একটি কাজ ছিল। ছবিটি করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখেছি। দর্শকের প্রতিক্রিয়া পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’
এর আগে তিনি অভিনয় করেছেন ভারতের ছবি ‘আরও এক পৃথিবী’ ও বাংলাদেশের ‘ফাতিমা’-তে। তবে ‘ইনসাফ’ তাঁর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র। দর্শকেরা হল থেকে বের হয়ে প্রশংসা করেছেন তাঁর চরিত্র, সংলাপ ও অভিনয়শৈলীর।
তাসনিয়া ফারিণ ও সাবিলা নূরের বড় পর্দার যাত্রা প্রমাণ করে, তাঁরা কেউই হঠাৎ করে চলচ্চিত্রে আসেননি। নাটক, ওটিটি ও স্বল্পদৈর্ঘ্য কনটেন্টের মাধ্যমে তাঁরা ধাপে ধাপে প্রস্তুত হয়েছেন। বড় পর্দায় এসে নতুন কোনো কিছু প্রমাণের চেয়ে বরং নিজেদের মতো করেই দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছেন।
এই ঈদ ছিল তাঁদের জন্য শুধু উৎসব নয়, বরং বড় স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ। সময় বলবে এই যাত্রা কোথায় গিয়ে পৌঁছায়, তবে শুরুটা যে শুভ, তা বলাই যায়।