বংশালে প্রেমিকার বাড়ি থেকে তরুণের মরদেহ উদ্ধার
পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় সজীব (১৯) নামে এক তরুণের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলে আগামসি লেনের একটি ভবনের চতুর্থ তলার সিঁড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. দুলাল হক বলেন, স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। চতুর্থ তলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে থাকা মরদেহের গলায় জিআই তার প্যাঁচানো ছিল। লাশের পাশে কোনো রক্তের দাগ পাওয়া যায়নি। ভবনটির ওই ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল।
এসআই দুলাল হক আরও বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
নিহত সজীব বংশালের আগামসি লেন এলাকার বাসিন্দা তাজউদ্দিনের ছেলে। তিনি আহমেদ বাউনিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এবার এইচএসসিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর সজীব বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ।
সজীবের চাচাতো ভাই শাহরিয়ার বলেন, শনিবার বিকেলে এক ফোনকল পাওয়ার পর সজীব বাসা থেকে বের হন। পরে খবর আসে, কাছাকাছি একটি ভবনের সিঁড়িতে তাঁর মরদেহ পড়ে আছে। শাহরিয়ারের দাবি, ওই ফোনটি এসেছিল সজীবের প্রেমিকা খাদিজার কাছ থেকে।খাদিজা তাঁকে বাসায় ডেকে নেয়। পরে খাদিজার স্বজনেরা তাঁকে আটকে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে বলে আমাদের ধারণা বলেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সজীবের সঙ্গে খাদিজার দীর্ঘ ছয় বছরের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু দুই পরিবারের কেউই এই সম্পর্ক মেনে নিচ্ছিল না। খাদিজার বাবা আগেই মারা গেছেন। ঘটনার পর থেকে তাঁর পরিবার পলাতক বলে জানিয়েছে সজীবের পরিবার।
সজীবের আরেক চাচাতো ভাই ইসলাম বলেন, “আমাদের সন্দেহ, খাদিজার দুই মামা ইকবাল ও কামাল ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে এটি শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।