বঙ্গোপসাগরের জন্ম কীভাবে হয়েছে জানেন?
সাড়ে ১৮ কোটি বছর আগে। গন্ডোয়ানাল্যান্ড নামে এক ভাঙনের গল্পের মধ্য দিয়ে। তখন পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে ছিল গন্ডোয়ানাল্যান্ড নামে এক বিশাল প্রাচীন মহাদেশ। আজকের ভারত, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, আন্টার্কটিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা ছিল এই মহাদেশেরই অংশ। কিন্তু প্রকৃতির অদৃশ্য ফেরে এই বিশাল জমি ফেটে যায়। টুকরো হয়ে যায় মহাদেশ। ভারত তখন ধীরে ধীরে উত্তরের দিকে সরে যেতে থাকে, যেন মহাসময়ের কোনো এক নিঃসঙ্গ যাত্রী।
এরও প্রায় ৫ কোটি বছর পর, ভারতীয় উপমহাদেশ উত্তর দিকে ধাবিত হয়ে ইউরেশিয়ান প্লেটে সজোরে ধাক্কা দেয়। সেই সংঘর্ষে জন্ম নেয় পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ‘হিমালয়’, কিংবা "পৃথিবীর মাথা"। হিমালয়ের উত্থানের বিপরীতে ভারতের দক্ষিণ অংশ ধীরে ধীরে বসে যেতে থাকে, যেন প্রকৃতি ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়। এভাবেই জন্ম নেয় একটি গভীর অববাহিকা—যেখানে জমতে শুরু করে পানির ধারা। সময়ের স্রোতে সেই অববাহিকাই হয়ে ওঠে বঙ্গোপসাগরের আদিরূপ।
যেখানে দুই মহাদেশীয় প্লেট একে অন্যের নিচে চাপ দিচ্ছে, সেখানেই ভূমির নিচে জমে উঠছে উত্তপ্ত ম্যাগমা। এই উত্তাপে জন্ম নেয় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। বঙ্গোপসাগরের এক প্রাকৃতিক প্রাচীর। সমুদ্রের বুক ফুঁড়ে ওঠা এসব দ্বীপ যেন সময়ের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।
উত্তরের হিমালয় থেকে নেমে আসা বরফগলা পানি পাহাড়ি ঢাল বেয়ে দক্ষিণ দিকে গড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার বছর ধরে সেই স্রোত পথ খুঁজে পায়, আর গড়ে ওঠে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী। এই তিন নদী বাংলাদেশের বুক চিরে দক্ষিণ দিকে বয়ে অবশেষে গিয়ে মিশে বঙ্গোপসাগরে।
তারা শুধু পানি নয়, সঙ্গে আনে কোটি কোটি টন পলিমাটি, গড়ে তোলে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বদ্বীপ। বাংলাদেশের উপকূল যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি বঙ্গোপসাগরের তীরও হয়েছে উর্বর ও প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর।