বঙ্গবন্ধু-তাজউদ্দীনসহ মুজিবনগর নেতারা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, অন্যরা সহযোগী
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের সদস্যরা এখন থেকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। আর মুজিবনগর সরকার গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখা ব্যক্তি ও পেশাজীবীদের ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) সংশোধিত অধ্যাদেশে এই নতুন সংজ্ঞা যুক্ত হয়েছে, যা আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গত মঙ্গলবার রাতে জারি করা হয়।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব বেসামরিক নাগরিক, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, ইপিআর, আনসার, মুক্তিবাহিনী ও মুজিবনগর সরকার স্বীকৃত অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা সরাসরি রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন বা ভারতের বিভিন্ন ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধ করেছেন, তাঁরা হবেন ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’।
এর পাশাপাশি যারা প্রশাসনিক, সাংস্কৃতিক বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে অবদান রেখেছেন, তাঁরা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেওয়া মুজিবনগর সরকারে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ ছিলেন।
নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এই নেতারা এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা সরাসরি ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, বঙ্গবন্ধু বা জাতীয় চার নেতার মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হয়েছে—এমন দাবি ‘ভুয়া খবর’। বরং নতুন আইনে তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্পষ্ট স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নতুন অধ্যাদেশে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে পাঁচটি শ্রেণির মানুষকে চিহ্নিত করা হয়েছে: বিদেশে অবস্থানরত পেশাজীবী ও জনমত গঠনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তি। মুজিবনগর সরকারের অধীন কর্মকর্তা, কর্মচারী, চিকিৎসক, নার্স ও সহকারীরা। মুক্তিযুদ্ধকালীন এমএনএ ও এমপিএ সদস্যরা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী, কলাকুশলী এবং দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা্স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যরা (যাঁদের আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ধরা হতো, এখন সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হবেন)
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম জানিয়েছেন, এই অধ্যাদেশে কারও সনদ বাতিল হয়নি, বরং সংজ্ঞার কাঠামো পরিষ্কার করা হয়েছে। যাঁরা সরাসরি যুদ্ধে ছিলেন, তাঁরা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’; আর বাকিরা পাবেন ‘সহযোগী’ হিসেবে স্বীকৃতি।