বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক শাস্তিযোগ‍্য অপরাধ: আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জে রিট

ধর্ষণ মামলার বিচার দ্রুত করতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সম্প্রতি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত খসড়ায় ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অবৈধ যৌন সম্পর্ক’ আর ধর্ষণের আওতায় রাখা হয়নি। নতুন ধারায় এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের কারাদণ্ড।

তবে এই ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. রাশিদুল হাসান। মানবাধিকার সংগঠন এইড ফর ম্যান ফাউন্ডেশন–এর পক্ষে এ রিট দায়ের করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান।

রিটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক দুই ব্যক্তির সম্মতিতে হওয়া যৌন সম্পর্ক শুধুমাত্র বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়ার কারণে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হলে তা ব্যক্তিস্বাধীনতা ও নারীর সম্মতির অধিকার লঙ্ঘন করে।

আইনজীবী ইশরাত হাসান  বলেন, কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকে অপরাধ বানিয়ে পুরুষকে ফৌজদারি মামলায় জড়ানো সংবিধান ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। নারীকে এ ধরনের মামলায় নির্বোধ বা লোভী হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা তাঁর সম্মান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যায়।

রিটে আদালতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, এই বিধান কেন অবৈধ, বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না—সে বিষয়ে রুল জারি করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না।

হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালেদীর বেঞ্চে রিট আবেদনটির শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।

All Categories