বিয়ের নতুন প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক!

“আজ থেকে বছর বিশেক আগেও বিয়ের কথা শুনলে চোখে ভাসতো পান চিবুতে চিবুতে ছাতা বগলদাবা করে ঘরে ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক ঘটকসাহেব। তার সন্ধানে থাকত বিভিন্ন পাত্র-পাত্রীর সন্ধান। বিবাহ উপযুক্ত পাত্র-পাত্রীর ঘরেই অনেকটা নিজ দায়িত্বেই চলে আসতেন ঘটক। এরপর সেই তথ্য অপর পক্ষকে দেওয়া। এসব দেখা হয়েছে ছোট থাকতেই। সেই ভয়ে মনের মধ্যে অনেকটা জেঁকে বসে ছিল বহুদিন পর্যন্ত। এই ঘটকের কাছে দারস্থ হবার ভয়ে বিয়েই করতে চাইতাম না। হঠাৎ করেই এক কলিগ জানালেন ফেসবুকের এক গ্রুপের কথা। সেই গ্রুপে নাকি পাত্র-পাত্রী নিজেই পছন্দমতো বেছে নিতে পারেন জীবনসঙ্গী! গ্রুপে জয়েন করাতেই সেই কথার সত্যতার প্রমাণ মিলল। নিজে নারী, আর নারীদের এই বিয়ের বাজারে যে অপমানিত হতে হয় তার তুলনা নেই। তবে গ্রুপটিতে কার কেমন পছন্দ তা সহজেই জেনে নেওয়ার সুযোগ থাকায় খুব একটা বিপদে পড়তে হয়নি।অনেক বেছে-শুনে জীবনসঙ্গী নির্ধারণ করার সুযোগ পেয়েছি।” এভাবেই জানাচ্ছিলেন ‘বিসিসিবি ম্যাট্রিমোনিয়াল: হেভেনলি ম্যাচ’ নামে একটি পেজের মাধ্যমে জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া নাতাশা রহমান (ছদ্মনাম)।

জানালেন, নিজের পছন্দমাফিক কয়েকটা ছবি, আর কী করতে ভালোবাসি আর কী করতে চাই, এগুলো লিখে পোস্ট দিয়েছিলেন তার সেই কলিগই। “আমার মেইল অ্যাড্রেসটা দেওয়া ছিল। ফলে নিজের ভালোর জায়গা থেকে সঙ্গী খুঁজে পেতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি।”  এমনকি অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ধরনের অসুবিধাতেও পড়তে হয়নি। পরিবার বিশেষ করে দুইপক্ষের মা-বাবাই বেশ নিশ্চিন্ত এখন। মাত্র একমাস হলো বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন জানালেন নাতাশা।

একইরকম কাহিনী প্রায় ডা. হাদিয়া আল মীম আর অর্ণব রহমানের ক্ষেত্রেও। বিসিসিবি ম্যাট্রিমোনিয়ালের মাধ্যমে গত ডিসেম্বরে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন এ দম্পতি। পাত্রী চেয়ে গ্রুপটিতে পোস্ট দেন আরেকজন উম্মে সাইয়ারা সায়্যিবান। জানা গেল, এ গ্রুপের মাধ্যমে নিজের বোনের জন্য পাত্রের সন্ধান পেয়েছিলেন। তাই এবার কাজিন আর নিজের বন্ধুর বিয়ের জন্য বায়োডাটা পোস্ট করেছেন তিনি। এরকম করে প্রায় প্রতিদিনই বিসিসিবি ম্যাট্রিমোনিয়ালে ২০০ থেকে ২৫০টির মতো বায়োডাটা জমা পড়ে বলে জানালেন গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা রিমন মাহমুদ। “ঘটকদের কাছে দিনের পর দিন বিয়ে নিয়ে যাতে ঘুরতে নাহয়, এ কারণেই ফেসবুককে বেছে নেওয়া।” 

জানাচ্ছিলেন রিমন মাহমুদ নিজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ছিলেন, মেজর হিসেবে অবসরে যান। এরপর কানাডাতে গিয়ে পড়াশোনা শেষে সেখানে একটি ব্যাংকে চাকরি নেন। এগুলো ২০০৪ সালের দিকের ঘটনা। “তখন গিয়ে দেখতে পাই বাংলাদেশ শব্দটার পেছনে, যে যার জেলাকে প্রতিনিধিত্ব করতে বেশি ব্যস্ত। বাংলাদেশিরা সেসময় একজোট ছিল না। তখন মনেহত বাংলাদেশি এ পরিচয়টি আগে আসা উচিত। একজোট না হওয়ার কারণ ছিল, এখান থেকে ভালো চাকরি করে ওইখানে গিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে যথেষ্ট কষ্ট করতে হতো। বিশেষ করে প্রথমদিকে অনেক কষ্টের কাজ বা ছোটখাটো চাকরি করতে হয়। যাতে আমরা যে কষ্ট করছি, আমাদের ছেলেমেয়েদের সেইধরনের কষ্টের মুখে পড়তে না হয়। তাই সবকিছু চিন্তা করে ‘বিসিসিবি’ নামে একটি ফোরাম করি। ২০১৫ সালের দিকে এ প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করি। আর বিসিসিবি নাম রাখার কারণ, আমরা আগে বাংলাদেশি পরে কানাডিয়ান (বিসি), আবার আমাদের সন্তানরা কানাডায় হওয়ায় জন্মসূত্রে তারা কানাডিয়ান, এরপর বাংলাদেশি (সিবি)। 

তবে যা ছিল নিছক বাংলাদেশি-কানাডিয়ানদের একটা প্ল্যাটফর্ম, তা হঠাৎ ম্যাট্রিমোনিয়াল হওয়ার পেছনের কারণ জানালেন রিমন। বিসিসিবি’র সূত্র ধরে একদিন পিএইচডি করছেন এমন এক নারী কল করেন তাকে। এরপর তার বন্ধুর জন্য পাত্র দেখতে বলেন তিনি। কিন্তু সেইসময় ওই নারীকে উল্টো জিজ্ঞেস করেন যে তিনি বিয়ে করেছেন কিনা। ওই নারী জানান, তার বয়স বেড়ে গেছে, আর সবচেয়ে বড় কথা ‘আমাদের সমাজ অনুযায়ী’ তার গায়ের রঙ গাঢ়ো। “এ কথাগুলো খুব দাগ কেটে যায়। তখনই বিসিসিবি ফোরামকে ম্যাট্রিমোনিয়াল প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়ার কথা ভাবি। তখন থেকেই ভাবি, বিয়ে নিয়ে সমাজের অবস্থানের পরিবর্তন প্রয়োজন। এটি নিয়ে কথা বলতে হবে, লজ্জা পেলে চলবে না। পরে ২০১৭ সালে এ ম্যাট্রিমোনিয়াল পেজটি খোলা। আগেই যেহেতু বিসিসিবি নিয়ে কাজ করেছি, তাই ফেসবুককে মনে হয়েছে একটা ভালো প্ল্যাটফর্ম।”

“আমি যখন শুরু করি, তখন বাংলাদেশে এই ধরনের কিছুই ছিল না। প্রথমে বিসিসিবি ম্যাট্রিমোনিয়াল শুধু কানাডায় যেসব বাঙালি আছেন, তাদের নিয়ে করি। কিন্তু তিনমাসের ভেতর বুঝতে পারি, শুধু কানাডাকেন্দ্রিক গ্রুপটি দাঁড়াবে না, কারণ ওই তিনমাসে কোনো বিয়ে হয়নি। তখন বাংলাদেশকে যোগ করতে চাই। কিন্তু বিসিসিবি’র অন্য সদস্যরা এতে  রাজি ছিল না। আটমাস পার হয়ে যাওয়ার কোনো বিয়ে না হওয়ায় পৃথিবীর সব বাংলাদেশিদের জন্য পেজটি উন্মুক্ত করে দেই। এর একমাসের মধ্যেই ব্যাপক সাড়া পাই। তারপর থেকে একটার পর একটা বিয়ে হতে থাকে। কারণ বিয়ের কোনো ভৌগলিক গণ্ডি নাই।”

বর্তমানে কানাডা থেকেই গ্রুপটি পরিচালনা করেন। ২০১৭ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৩,৩৮,০০ সদস্য আছে গ্রুপটিতে। ২৬ জন অ্যাডমিন আর ১০ জন মর্ডারেটর রয়েছে গ্রুপটিতে।

এ পর্যন্ত কতগুলো বিয়ে হয়েছে বিসিসিবি ম্যাট্রিমোনিয়ালে জানালেন রিমন, ‘আমরা প্রথম দিকে বিয়ের সংখ্যা হিসাব রাখতাম। যখন ৩৬টি বিয়ে সম্পন্ন হয় সেইসময় থেকে আর হিসেব রাখা হয় না।”কেবল ২০২২ সালেই গ্রুপটিতে বায়োডাটা দেওয়ার পর ২,০০০টির মতো বিয়ে হয়েছে বলে জানালেন তিনি।

“তবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিয়ে হয়েছে এটা অনেকেই জানাতে চান না বা লজ্জা পান এটাও হিসেব রাখতে না পারার অন্যতম একটি কারণ। তবে এখন এসব ট্যাবু অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। কারণ, এই প্ল্যাটফর্মে নারীরা নিজেরা নিজেদের বায়োডাটা দিচ্ছে। বয়স ২৭, ৩২ যাইহোক, এখানে তা কোনো বিষয় না। মোটকথা, বিসিসিবি ম্যাট্রিমোনিয়াল নারী ক্ষমতায়নের একটি নিদর্শন। গ্রুপটিতে নিঃসন্দেহে মেয়েরা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। একজন নারী চিকিৎসক তার বিয়ের বায়োডাটা দিয়ে, ৭শ’র মতো সিভি পাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও জানালেন তিনি। এছাড়া ডিভোর্স হয়েছে এরকম পাত্র-পাত্রীরাও নিজেদের হয়ে পোস্ট দিচ্ছেন। “অর্থাৎ বিয়ে নিয়ে কথা বলা যাবে না, আলোচনা করা যাবে না, সে জায়গা থেকে ম্যাট্রিমোনিয়ালের মাধ্যমে আমরা বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি।”

 

“অন্যরকম সাফল্য”

২০২০ সালের এপ্রিলে রিমনের ভাষায় “অন্যরকম এক সাফল্যর”দেখা পান তিনি। ক্যান্সারের স্টেজ ফোরে থাকা এক নারী কল দিয়ে, তার দুই মেয়েকে ম্যাট্রিমোনিয়ালের মাধ্যমে বিয়ে দেওয়ার কথা জানান। “তোমাদের জন্য আমি এখন শান্তিতে মারা যেতে পারব,” ওই নারীর মুখ থেকে এরকম কথা শুনে, অদ্ভুত একটা অনুভূতি কাজ করছিল বলে জানালেন রিমন। “তবে পরবর্তীতে আর ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি, এজন্য আক্ষেপ রয়ে গেছে কিছুটা।”

জানালেন প্রতিদিন দুইশ’টির বেশি বায়োডাটা তার গ্রুপে পোস্ট হয়। “যেহেতু আমরা কোনো টাকা নেই না, আর অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ঘটকের পেছনে দৌড়াদৌড়ির ঝামেলা নেই, এটিও প্রতিদিন এতো বায়োডাটা আসার পেছনের কারণ হতে পারে,” এমনটিও জানালেন তিনি।

তবে কাজ করার আরও অনেক বিষয় আছে বলে মনে করেন রিমন। তার ভাষ্য, দেশে প্রায় ২০ কোটির কাছাকাছি মানুষ। সেই হিসেবে ম্যাট্রিমোনিয়াল গ্রুপটিতে প্রচুর মানুষের যোগ করা প্রয়োজন।

রিমনের মুখ থেকে অন্যরকম সাফল্যের গল্প শুনতে গিয়ে চোখ আটকে গেল নিউজিল্যান্ড নিবাসী নাফিজ আহমেদের একটি পোস্টে। বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন তিনি, চাকরিসূত্রে এখন থাকছেন নিউজিল্যান্ডে। বউ যেহেতু বাংলাদেশে আর তিনি নিজে নিউজিল্যান্ডে, তাই ভরসা ছিল অনলাইন। ঘটক না, বিসিসিবি ম্যাট্রিমোনাল গ্রুপের মধ্য দিয়েই খুঁজে পেয়েছেন জীবনসঙ্গী! ৩০ জানুয়ারির ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বিসিসিবিতে গ্রুপ পোস্ট দেখে আমি সিভি দিয়েছিলাম। ভাগ্য সহায় হওয়ায় আল্লাহ আমার জীবনের সংগী আপনাদের গ্রুপের কল্যাণেই হয়ে গেছে। সবাই দোয়া করবেন আমাদের জন্য।’ কথা বলে জানা গেল, নাফিজের পক্ষ থেকে প্রথমে পোস্টটি দিয়েছিলেন তার বোন। 

 

ঘটক পাখি ভাই প্রাইভেট লিমিটেড

ওই ধাঁধার কথা মনে আছে? `একটি বাড়িতে ঘটক আসছে মেয়ে দেখার জন্য, নাপিত আসছে চুল কাটার জন্য এবং বেপারি আসছে লাউ কেনার জন্য। তিনজনকে এক কথায় বিদায় করতে হবে। একটি বাড়িতে ঘটক আসছে মেয়ে দেখার জন্য, নাপিত আসছে চুল কাটার জন্য এবং বেপারি আসছে লাউ কেনার জন্য’…উত্তরটা হচ্ছে, `এখন না, বাড়ুক’, অর্থাৎ এই ‘বাড়ুক’ এর ক্ষেত্রে এখানে মেয়ে, চুল, লাউ সবই সবই প্রযোজ্য। এখানে সচেতনরা জেন্ডার বৈষম্য খুঁজে পেলে দোষ নেই। তবে নারীদের হেয় করা এইসব ধাঁধার যে দিন ফুরিয়েছে সে তো বলাই বাহুল্য, কারণ এখন পাত্র-পাত্রী সবার নিজের সুযোগ রয়েছে বয়স জেনে এরপর বিয়ে করার। ফেসবুকের ম্যাচমেকিং গ্রুপগুলো এর জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ তো বটেই। 

তবে ঘটকের কদর এই যুগেও যে নেহাৎ মন্দ নয়, তার প্রমাণ এ যুগের ঘটক পাখি ভাই, কাজী আশরাফ হোসেন। ঘটক পাখি ভাই নামে যিনি সর্বমহলে তুমুল জনপ্রিয়। এ পর্যন্ত ২২ হাজারের কাছাকাছি বিয়ে দিয়ে মোটামুটি ইতিহাস তৈরি করা পাখি ভাই ৪৭ বছর ধরে এ সংশ্লিষ্ট রয়েছেন বিয়ে দেওয়ার কাজে। সেই পাখি ভাইও কিন্তু দারস্থ হয়েছেন ই-প্ল্যাটফর্মে। বহাল তবিয়তে বিয়ে দিয়ে যাচ্ছেন ফেসবুক ও ইন্টারনেটের কল্যাণে। প্রায় ৫০ হাজার অনুসারী রয়েছে এ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটিতে।

রাজধানীর হাতিরপুলের ইস্টার্ন প্লাজা থেকে তার মূল অফিস পরিচালিত হয়। ঘটক পাখি ভাই প্রাইভেট লিমিটেডের অফিস থেকে জানা গেল এখন যে বিয়েগুলো হচ্ছে, তার শতকরা ৩০ শতাংশই ফেসবুককেন্দ্রিক। তার কাছে যাদের বায়োডাটা থাকে, সেগুলো ফেসবুক পেজেও আপলোড করা হয়। 

তাসলিমা ম্যারেজ মিডিয়া

বাংলাদেশের এক নম্বর ম্যারেজ ম্যাচমেকিং এজেন্সি দাবি তাসলিমা ম্যারেজ মিডিয়াও বেশ সক্রিয় ফেসবুকে। প্রায় পৌনে তিন লাখ অনুসারীর পেজটি গত ১১ বছর ধরে বিয়ে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছে। শুধু ফেসবুক নয় টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ মোটামুটি সবধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই বেশ সক্রিয় ম্যারেজ মিডিয়াটি। এমনটি দাবি মিডিয়াটির প্রতিষ্ঠাতা তাসলিমা আক্তারের। শুধুমাত্র অনলাইনকে কেন্দ্র করে “বিয়েশাদি ডট কম” নামের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করছেন বলেও জানা গেল তার কাছ থেকে।

সরব বিশ্ববিদ্যালয় ও এলাকাভিত্তিক ম্যাচমেকিং গ্রুপগুলোও! 

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ম্যাচমেকিং গ্রুপগুলো বেশ ভালো ভূমিকা রাখছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাচমেকিং এন্ড ম্যাট্রিমোনি নামে একটি পেজ রয়েছে। প্রায় ৬ হাজার অনুসারির পেজটি ছাড়াও ‘পাত্র-পাত্রী দু’জনেই হবে ঢাবিয়ান’ নামে আরেকটি নামে একটি প্রাইভেট গ্রুপও রয়েছে। প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার সদস্যের গ্রুপটিতে ঢাবিয়ানদের জন্য অনেকটাই আস্থার জায়গায় দাঁড়িয়েছে বলে জানাচ্ছিলেন নাদিম ইসলাম নামে গ্রুপটির এক সদস্য। ২০২০ সালে গ্রুপটির কার্যক্রম শুরু হয়, এরইমধ্যে ঢাবিয়ান পাত্র-পাত্রীদের ভেতর গ্রুপের ৬৭তম বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে গত ১৪ জানুয়ারি।  

“আমাদের সকলের একটা পরিচয় আমরা ঢাবিয়ান। বাংলাদেশের ইতিহাস,ঐতিহ্যের সাথে মিশে যাওয়ার সংগ্রামে কাঁধে কাঁধ মিলাতে যেমন আমরা সিদ্ধহস্ত তেমনি ব্যক্তিজীবনেও একে অপরকে আপন করে নিয়ে জীবন পাড়ি দিতে স্বাচ্ছদ্যবোধ করি। আমরা চাই আমাদের পারস্পরিক এই আত্মার বন্ধনটা সবসময় অটুট থাকুক,আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা গ্রুপের কার্যক্রম শুরু করেছি।” গ্রুপটিতে ঢুকলেই এরকম একটি পোস্ট চোখে পড়বে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জেইউ ম্যাচমেকিং গ্রুপটিতেও সাবেক-বর্তমান মিলে প্রায় ১০ হাজার সদস্য রয়েছে। গ্রুপটিতে জাবিয়ান বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা তাদের পক্ষে অন্য জায়গা পড়েছেন বা চাকরি করেছেন, এমন ব্যক্তিদের বায়োডাটাও পোস্ট করতে পারেন।

“পাত্র-পাত্রী যেমনটি চান, ভাবনা কিছুই নাই, জুটিয়ে দেবেন আনন্দরাম, যেমনটি ঠিক চাই, আনন্দরাম ভালই জানেন আপন কর্মধারা, খুঁতের সাথে খুঁত মিলিয়ে দুইটি হৃদয় জোড়া, এই ভাবেতে শতশত বিয়ে দিয়ে তিনি, ঘটক কুলে পরিচিত ঘটক চূড়ামণি।” ফেসবুকেই বায়োডাটার দেওয়ার সুযোগ থাকায় এই ধারণার পরিবর্তন এসে গেছে বলে জানাচ্ছিলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবির মাহমুদ। সম্প্রতি তিনি বিয়ে করেছেন তার বিশ্ববিদ্যালয়েরই আরেক শিক্ষার্থীকে। জানাচ্ছিলেন, বাসা থেকে বিয়ের জন্য অনেক চাপ ছিল, কিছুতেই পছন্দমতো সঙ্গী পাচ্ছিলেন না। ঘটক মহাশয়দের হাত থেকে রেহাই পেতে বন্ধুদের একজনকে তার হয়ে পোস্ট করতে বলেন জাবির ম্যাট্রিমোনিয়াল গ্রুপে। এর দুইমাসের ভেতরই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। নিজের বিয়ে নিয়ে ঘটকদের চক্কর থেকে বের হতে পেরে বেশ খুশি বলেই জানালেন আবির।

All Categories