বিশ্বশান্তির দাবিতে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’, নেতৃত্বে নিজেই

 ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।

 প্রাথমিকভাবে গাজা যুদ্ধ–পরবর্তী শান্তি রক্ষা ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এই বোর্ড গঠন করা হলেও, এর পরিধি কেবল গাজায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে চলমান বড় বড় সংঘাত নিরসনে এই সংস্থাকে জাতিসংঘের বিকল্প শক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

বোর্ড অব পিসের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে গাজায় যুদ্ধ–পরবর্তী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, পুনর্গঠন কার্যক্রম তদারকি এবং সেখানে একটি কার্যকর শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের পরিকল্পনায় এই বোর্ড জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি শক্তিশালী বিকল্প কাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রচলিত আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে দ্রুত ও কঠোর ভূমিকা নেওয়া হবে। গাজার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

এই বোর্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। নি্জেকে আজীবন চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, ফলে নীতিনির্ধারণে চূড়ান্ত ক্ষমতা  তার হাতেই থাকবে। বোর্ডের কার্যনির্বাহী সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, স্টিভ উইটকফ এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। সদস্যপদ কাঠামোও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো দেশ স্থায়ী সদস্য হতে চাইলে ১ বিলিয়ন ডলার ফি দিতে হবে, অন্যথায় তিন বছরের জন্য সীমিত মেয়াদের সদস্যপদ দেওয়া হবে। 

বর্তমানে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য ভারত, পাকিস্তানসহ প্রায় ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ, বিশেষ করে নরওয়ে ও সুইডেন, পাশাপাশি রাশিয়া ও চীন এই বোর্ডের নিরপেক্ষতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বোর্ড অব পিস ঘিরে বিতর্কও কম নয়। সমালোচকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাম্প আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাব আরও শক্তিশালী করতে চাইছেন। অনেকেই একে ‘ট্রাম্পের জাতিসংঘ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন, কারণ এখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে চেয়ারম্যানের হাতেই কার্যত ভেটো ক্ষমতা রাখা হয়েছে। ফলে এটি সত্যিই বিশ্বশান্তির নতুন পথ খুলবে, নাকি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আরেকটি হাতিয়ার হবে—সে প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

 

All Categories