বিশ্বকে চমকে দিয়ে মিস ইউনিভার্স ফাতিমা বশ

গোটা বিশ্বকে অবাক করে ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতেছেন মেক্সিকোর ফাতিমা বোশ ফেরান্দেজ। দেশটির জন্যও এটি প্রথম মিস ইউনিভার্স জয়। বৃহস্পতিবার রাতে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয় এবারের আসরের চূড়ান্ত পর্ব।

প্রতিযোগিতায় রানার আপ হয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রাভীনার সিং এবং ভেনিজুয়েলার স্টেফনি আদ্রিয়ানা আবাসালি নাসের।

শুধু সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা নয় সঞ্চালকের আপত্তিকর মন্তব্য, প্রতিযোগীদের প্রতিবাদ, বিচারকের পদত্যাগ সব মিলিয়ে এবারের চূড়ান্ত পর্ব এক বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার জন্ম দেয়। বিতর্কের মধ্যেই দৃঢ়তায় এগিয়ে মুকুট জিতে নেন ফাতিমা।

ফাইনাল ঘোষণা ঘিরেও দেখা দেয় নাটকীয়তা। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ‘মিস জালিস্কো’ ইয়োয়ানা গুতিয়েরেসই বিজয়ী হবেন। কিন্তু ফাতিমার নাম ঘোষণার পরই দর্শকদের একটি অংশ তীব্র প্রতিবাদ জানায়। এরপর মঞ্চে উপস্থিত প্রতিযোগীদের মধ্যে মাত্র চারজন লোরেনা লোপেজ, ফের্নান্দা পুমা, এমিরে আরেয়ানো ও এলেনা রোলদান তাঁকে অভিনন্দন জানান।

প্রতিক্রিয়ায় ফাতিমা বলেন, যারা সত্যিই আমাকে ভালোবাসেন, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। লোরেনা, ফের্নান্দা, এমিরে ও এলেনা তাঁরা প্রত্যেকেই এই শিরোপার যোগ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘কেউই আমাকে এই মুকুট উপভোগ করা থেকে বিরত রাখতে পারবে না। এই মুকুট মানে পরিশ্রম, আর সেটার অধিকার আমি অর্জন করেছি।

চূড়ান্ত রায় ঘোষণার আগেই ঘটে আরেক বিতর্ক। আয়োজকদের একজন অভিযোগ তোলেন, ফাতিমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্যাপ্তভাবে থাইল্যান্ডকে প্রচার করেননি। ওই কর্মকর্তা ফাতিমাকে ‘ডাম্বহেড’ বলে কটূক্তিও করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে কয়েকজন প্রতিযোগী হল ত্যাগ করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডাকা হয় নিরাপত্তাকর্মীদের। পরে সাংবাদিকদের ফাতিমা বলেন, তিনি আমাকে “ডাম্ব” বলেছেন। এটা সম্পূর্ণ অন্যায়। এভাবে কাউকে চুপ করানো যায় না।

এ ঘটনার পর মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন দ্রুত বিবৃতি দেয়। সংস্থার সভাপতি রাউল রোচা নাওয়াত ওই আচরণের নিন্দা জানিয়ে বলেন, এমন অপেশাদার আচরণের কোনো স্থান নেই প্রতিযোগিতায়।

সব বিতর্কে স্থির থাকেন ফাতিমা। বিজয়ের পর তিনি বলেন, আমি নিজের কথা বলতে ভয় পাই না। আমি কোনো সাজানো পুতুল নই। আমি এখানে এসেছি সেই নারীদের পক্ষ নিতে, যারা তাদের অধিকার ও স্বপ্নের জন্য লড়াই করছে।

২৫ বছর বয়সী ফাতিমা মেক্সিকোর পোর্ট গ্যালের বাসিন্দা। তিনি টেকসই ফ্যাশন, কমিউনিটি সেবা ও নানা সামাজিক সচেতনতা–ভিত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত।

আগামী এক বছর মিস ইউনিভার্স হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, মডেলিং এবং সামাজিক উদ্যোগের কাজে যুক্ত থাকবেন তিনি। পাশাপাশি এবারের বিতর্ক থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় ‘স্বচ্ছতা ও মর্যাদা’ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে হবে তাঁকেই।

All Categories