বিশ্বকাপের স্বপ্ন জাগাচ্ছে এশিয়ান কাপে ঋতুপর্ণাদের সাফল্য

বাংলাদেশ নারী ফুটবলে লেখা হলো এক নতুন ইতিহাস। বাছাইপর্বের ‘সি’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথমবারের মতো ২০২৬ নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ।

গতকাল মিয়ানমারের মাটিতে স্বাগতিকদের ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় ঋতুপর্ণা চাকমার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। এরপর গ্রুপের আরেক ম্যাচে বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তান ড্র করতেই এক ম্যাচ হাতে রেখেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে চূড়ান্ত পর্বে উঠেছে সাবিনা খাতুনরা।

১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া নারী এশিয়ান কাপে এখন পর্যন্ত অংশ নিয়েছে ২২টি দেশ। ২৩তম দল হিসেবে এই মর্যাদার আসরে নাম লেখাল বাংলাদেশ।

আগামী ১ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পাঁচটি ভেন্যুতে বসবে ১২ দলের এই চূড়ান্ত পর্ব। স্বাগতিক হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও আগেই জায়গা করে নিয়েছে ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়ন চীন, রানার্সআপ দক্ষিণ কোরিয়া এবং তৃতীয় হওয়া জাপান। বাকি আট দল আসবে বাছাইপর্বের আট গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে— যার মধ্যে প্রথম দল হিসেবে টিকিট পেল বাংলাদেশ।

কোন গ্রুপে খেলবে বাংলাদেশ?

আগামী ২৯ জুলাই সিডনির টাউন হলে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত পর্বের ড্র। ১২ দলকে চারটি পটে ভাগ করা হবে সর্বশেষ ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া থাকবে এক নম্বর পটে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১২৮তম স্থানে থাকা বাংলাদেশ পড়বে চার নম্বর পটে।

চূড়ান্ত পর্বে দলগুলো তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ এবং তিন গ্রুপের মধ্যে সেরা দুই তৃতীয় স্থানের দল যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে চ্যাম্পিয়ন।

বিশ্বকাপের পথে বাংলাদেশ

২০২৬ নারী এশিয়ান কাপ এবার ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব হিসেবেও কাজ করবে। ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে এশিয়া অঞ্চল থেকে ছয়টি দল সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে।

চূড়ান্ত পর্বে সেমিফাইনালে ওঠা চার দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে। কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যাওয়া চার দল দুটি প্লে-ইন ম্যাচ খেলবে, যেখানে বিজয়ী দুই দল পাবে বিশ্বকাপের টিকিট। পরাজিত দুই দলকে যেতে হবে আন্ত-মহাদেশীয় প্লে-অফে।

অলিম্পিকের স্বপ্নও এখানেই

নারী এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আটটি দল ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের বাছাইপর্বে খেলার সুযোগ পাবে। দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলা শেষে দুই গ্রুপ চ্যাম্পিয়নই জায়গা পাবে অলিম্পিকের মূল আসরে।

বাংলাদেশ নারী ফুটবলের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এবার লক্ষ্য বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের মঞ্চে পা রাখা। ইতিহাস গড়ার শুরুটা হয়েছে, সামনে পথ আরও বড়।

All Categories