বিসিবিতে দুদকের হানা: বিব্রত বোর্ড পরিচালকরা
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্রিকেটাঙ্গনে এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। বিসিবির একাধিক পরিচালক মনে করছেন, দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তিতে আঘাত লেগেছে এ ঘটনায়। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
বোর্ডের কয়েকজন পরিচালক জানান, দুদকের কাছে যথাযথ নথিপত্র জমা দিয়ে স্বচ্ছতা প্রমাণ করতে চান তারা। এ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বোর্ড সভাপতি ফারুক আহমেদকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিচালকরা। তাঁরা একটি জরুরি বোর্ড সভা আহ্বানের পরামর্শও দিয়েছেন। তবে গতকাল পর্যন্ত সভা আহ্বান সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বোর্ডের এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিসিবিতে দুদক আসার মতো পরিস্থিতি কে তৈরি করেছে, তা আমাদের জানা নেই। তারা যেসব বিষয়ে অনুসন্ধান করছে, সেগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হতে পারে। কিন্তু বোর্ডের তৃতীয় বিভাগ বাছাই টুর্নামেন্টে সরাসরি জড়িত থাকার সুযোগ নেই।
প্রসঙ্গত, ওই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ক্লাবগুলোর নিবন্ধন ফি ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা হয়। পরিচালক দাবি করেন, এই ফি বাড়ানোর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। বরং লক্ষ্য ছিল অংশগ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করে টুর্নামেন্টে শৃঙ্খলা আনা। তবে অনেকেই এই নীতিকে বিতর্কিত বলেই দেখছেন।
দুদক টিকিট বিক্রি ও কনসার্ট আয়োজন নিয়েও তদন্ত করছে। এ প্রসঙ্গে এক পরিচালক বলেন, “এবারের বিপিএলে টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছিল, কমপ্লিমেন্টরি টিকিটও কম দেওয়া হয়েছে। ফলে রাজস্ব আয় ভালো হয়েছে। তবে আগে দুর্নীতি হয়ে থাকলে তার তদন্ত হওয়া উচিত।
তিনি আরও জানান, কনসার্টসহ অন্যান্য আয়-ব্যয়ের সব নথিপত্র বোর্ডের অডিট রিপোর্টে রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তা দুদককে দেওয়া হবে।
বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, “দুদককে সব ডকুমেন্ট দেওয়া হবে। আমরা চাই, প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক।
তবে বোর্ডের ভেতরেই কেউ কেউ সন্দেহ করছেন, অভিযানের পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। অভিযোগে অর্থ ও লজিস্টিকস কমিটির চেয়ারম্যান ফাহিম সিনহার নাম থাকায় বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে বলেও অনেকে মনে করছেন। ফাহিম সিনহার পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন, যা আলোচনাকে আরও ঘোলাটে করেছে।
বোর্ড কর্মকর্তারা আশা করছেন, দুদক পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের বক্তব্য, বিসিবি সব সময় স্বচ্ছতা বজায় রেখেই কাজ করতে চায়।