বিসিবির অর্থ আত্মসাত: পাপনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু
বাংলাদেশের সাবেক যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী ও বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে। আজ মঙ্গলবার, রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থার মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, নাজমুল হাসান বিসিবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে সরকারি এবং ক্রিকেট বোর্ডের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আক্তার হোসেন আরও জানান, দুদক দীর্ঘদিন ধরে এই অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রমাণ যাচাইয়ের কাজ করছিল। অবশেষে তারা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, নাজমুল হাসান নিজের এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা এই সম্পদ অর্জনে দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ এবং ক্রিকেট বোর্ডের তহবিলের অপব্যবহার করেছেন।
এদিকে, গত রোববার, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত নাজমুল হাসান, তার স্ত্রী রোকসানা হাসান, মেয়ে সুনেহরা রহমান, রুশমিলা রহমান এবং ছেলে রাফসান হাসানকে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। আদালত তাদের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির তদন্তের কারণে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
দুদক আদালতে জানিয়েছে, নাজমুল হাসান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও বেশ কিছু অনিয়মের সাথে যুক্ত। একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তহবিল এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া, তিনি এবং তার পরিবার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন, যা দেশের আইন ও বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
নাজমুল হাসান এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা বাংলাদেশের শীর্ষ ক্রিকেট সংস্থার অর্থ ও সম্পদ নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তারা এসব অনিয়মের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছেন। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই অনুসন্ধান চালিয়ে যাবেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।