বিনিয়োগে গতি আনতে শেয়ার লেনদেনে উৎসে কর কমানোর দাবি
পুঁজিবাজারে সিকিউরিটিজ লেনদেনের ওপর আরোপিত উৎসে করের হার কমানো এবং কর সমন্বয়ের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।
শনিবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।
সভায় ডিবিএ নেতারা বলেন, বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্রোকারেজ হাউজগুলোর মোট লেনদেনের ওপর ০.০৫ শতাংশ হারে উৎসে কর আদায় করে, যা ব্রোকারদের মোট আয়ের প্রায় ২৫ শতাংশ। অথচ ২০০৫ সালের অর্থ আইনে এই করহার ছিল মাত্র ০.০১৫ শতাংশ।
ডিবিএর মতে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের করহার অত্যন্ত বেশি। উদাহরণ হিসেবে তারা জানান, ভারতে এই করহার ০.০১ শতাংশ, পাকিস্তানে ০.০০০৬৫ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ০.০০৭৫ শতাংশ এবং হংকংয়ে ০.০০৫৬৫ শতাংশ। মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কে সিকিউরিটিজ লেনদেনে কোনো উৎসে করই নেই।
সংগঠনটি আরও জানায়, ১ লাখ টাকার লেনদেনে যেখানে বাংলাদেশে ৫০ টাকা কর দিতে হয়, সেখানে ভারতে ১০ রুপি, পাকিস্তানে ৬৫ পয়সা, সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে এর চেয়েও অনেক কম কর দিতে হয়।
ডিবিএ নেতারা বলেন, বর্তমানে বাজারের পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্বল। বেশির ভাগ ব্রোকারেজ হাউজই লোকসানে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে উৎসে কর সমন্বয়ের কোনো সুযোগ না থাকায়, প্রতিষ্ঠানগুলোকে লোকসানের পরও কর দিতে হচ্ছে যা আয়কর আইনের মূল চেতনার বিরোধী।
তাদের মতে, শুধুমাত্র নিট আয়ের ওপর কর আরোপই যৌক্তিক। কিন্তু লেনদেনভিত্তিক উৎসে কর আরোপ করায় ব্রোকার হাউজগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
সভায় ডিবিএ নেতারা অভিযোগ করেন, সরকারের বিভিন্ন খাতে গতিশীলতা আনলেও পুঁজিবাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। সম্প্রতি দেশে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনেও পুঁজিবাজারকে উপেক্ষা করা হয়েছে। সেখানে পুঁজিবাজারের জন্য কোনো বুথ বা সেশন রাখা হয়নি, যা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে অন্তরায়।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের আগে ‘এক্সিট অপশন’ বা বিনিয়োগ প্রত্যাহারের সহজ পদ্ধতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। একমাত্র পুঁজিবাজারই একটি কার্যকর এক্সিট প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম। আরও বক্তব্য দেন ডিএসইর সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী, ডিবিএ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুদ্দিন সিএফএ, ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের এমডি মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ব্র্যাক ইপিএস সিকিউরিটিজের সিইও আহসানুর রহমান, ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজের সিইও সুমন দাস এবং সিটি ব্রোকারেজের এমডি আফফান ইউসুফ।
ডিবিএ নেতারা বলেন, সরকার যদি পুঁজিবাজারকে প্রাধান্য দেয় এবং করনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনে, তবে এই খাত আরও শক্তিশালী হয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।