বিএসইসির নীতিতে পুঁজিবাজার ৫০ বছর পিছিয়ে পড়ছে
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এ তেমন কোনো কার্যকর উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) নেতারা।
তাদের অভিযোগ, বিএসইসি এখন জরিমানার কাজেই বেশি মনোযোগী। কমিশনে প্রকৃত কোনো কাজ হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তারা। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবিএ নেতারা এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, বিএসইসির যেসব দায়িত্ব, সেগুলো এখন তারা মন্ত্রণালয়ের কাছে ঠেলে দিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে শেয়ারবাজারকে অন্তত ৫০ বছর পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ডিবিএ নেতাদের ভাষ্য, গত আট মাসে বিএসইসিতে একটি আইপিওও পেন্ডিং নেই, যা বিশ্বের কোথাও নজির নেই। বাজারে নতুন পণ্যের সরবরাহ একেবারেই দুর্বল।
বিএসইসির গঠিত টাস্কফোর্স নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ডিবিএ নেতারা। তাদের অভিযোগ, যাদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, তারা অভিজ্ঞতাহীন। এরপর করা হয়েছে ফোকাস গ্রুপ, যারা ব্রোকারদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছাড়াই মতামত দিয়েছে। অথচ তাদের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
ব্রোকার নেতারা বলেন, স্কয়ার গ্রুপ বাংলাদেশের একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড। তারা চাইলে এই বাজার থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা তুলে নিতে পারত। কিন্তু তারা তা করেনি। বরং, গণমাধ্যমে জানিয়েছে আর কোনো কোম্পানি তারা শেয়ারবাজারে আনবে না।
কেন তারা আসতে চায় না, সমস্যা কোথায় এসব নিয়ে স্কয়ারের সঙ্গে ফোকাস গ্রুপের আলোচনা করা উচিত ছিল। তাহলে বাস্তব সমস্যাগুলো বের হয়ে আসত। কিন্তু তা হয়নি,বলেন এক ডিবিএ নেতা।
ব্রোকারদের অন্যতম প্রধান অভিযোগ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) নিয়ে। তারা জানান, প্রতি এক লাখ টাকার লেনদেনে ৫০ টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। অথচ ভারতে বছরে এই কর মাত্র ১০ টাকা, পাকিস্তানে ৬৫ পয়সা, সিঙ্গাপুরে ৭ টাকা।
এই কর সমন্বয়যোগ্য না, এটি চূড়ান্ত আয়কর হিসেবে গৃহীত হয়। ফলে প্রতিবছর লোকসান দিয়েও আয়কর দিতে হয় আমাদের। এটি সম্পূর্ণ অন্যায়।
ডিবিএ নেতাদের অভিযোগ, যেখানে মুনাফা হলে আয়কর দেওয়ার কথা, সেখানে ১৫ বছর ধরে লোকসান করেও কর দিচ্ছে ব্রোকাররা। এটা জুলুম। এমন পরিস্থিতিতে মানুষ রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের একজন বলেন, আগের কমিশন শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে। আর বর্তমান কমিশন যেন পুরো বিএসইসিকেই শেষ করে দিয়েছে।