বিএসইসির চেয়ারম্যান–কমিশনারদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ কর্মকর্তা–কর্মচারীর
পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে আজ বুধবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিক্ষোভ শুরু করেছেন। এ সময় তারা বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কমিশনারদের পঞ্চম তলায় অবরুদ্ধ করে রাখেন।
গতকাল মঙ্গলবার (৪ মার্চ) বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এক আদেশে সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। ২৫ বছরের চাকরিজীবন শেষে সাইফুর রহমানকে জনস্বার্থে অবসর প্রদান করা হয়,তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদস্বরূপ বিএসইসি ভবনের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেন,যা পুরো ভবনে অন্ধকারের সৃষ্টি করে। ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএসইসি ভবনের আশপাশে পুলিশ,র্যাব এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়।
অন্যদিকে, কিছু প্রতিবাদকারীকে আটক করে গ্রাউন্ড ফ্লোরে নিয়ে যাওয়া হয়,কিন্তু বিক্ষোভকারী কর্মকর্তারা তাদের আটকানোর প্রতিবাদ জানিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলেন।
২০২৪ সালের ৪ মার্চ বিএসইসি কমিশনের ৯৪৫তম সভায় সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সাইফুর রহমান বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে ২৫ বছর চাকরি শেষে অবসর নেন। তার চাকরি থেকে অবসরের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে,সাইফুর রহমানকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০২১ এর ৬৩ বিধি এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ৪৫ ধারার আওতায় অবসর প্রদান করা হয়েছে। তবে গত বছরের ২২ আগস্ট সাইফুর রহমানকে ওএসডি (অর্ডার অব সেন্ড ডিউটি) করা হয় এবং পরে তাকে আর অ্যান্ড ডি বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ৯ সেপ্টেম্বর তাকে ওই দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি অফিসে নিয়মিত আসলেও কোনো কাজ পাচ্ছিলেন না।
এ বিষয়ে এক ঊর্ধ্বতন বিএসইসি কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে বিএসইসির কমিশনারদের খারাপ আচরণ এবং ১২টি কোম্পানির তদন্তের কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।সাইফুর রহমানকে অবসরে পাঠানোর পর এই ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে এবং কর্মকর্তারা পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।