বিএনপির ‘সুস্থতা’ কামনা জামায়াতের, অভিযোগকে বলল অসুস্থতার লক্ষণ

জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের অভিযোগকে বিএনপির রাজনৈতিক ‘অসুস্থতার লক্ষণ’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ কোনো সুস্থ চিন্তা থেকে আসতে পারে না। জনগণের বিপুল সমর্থন দেখে একটি পক্ষ ভীত হয়ে এসব কথা বলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বিএনপির ‘সুস্থতা’ কামনা করে দোয়ার কথাও জানান।

রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে জামায়াতের নারী শাখার নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো নিয়ে বিএনপির অভিযোগের জবাবে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতের সব কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যেই হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে কোনো প্রচারণা নয়, দিনের আলোতেই সমাবেশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। তিনি বলেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ইতোমধ্যে ৩৫টি জেলা সফর করেছেন এবং প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন। নায়েবে আমির ও সেক্রেটারি জেনারেলরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এসব অভিযোগ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি অপপ্রয়াস ছাড়া কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নারী কর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভোটের কাজ করতে গিয়ে জামায়াতের নারী কর্মীরা পাড়া-মহল্লায় নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সাইবার বুলিং, শারীরিক নিপীড়ন, হিজাব ও নেকাব খুলে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটছে। এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিটিগুলোকে জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, দেশের মোট ভোটারের অর্ধেক নারী হওয়ায় তাদের জন্য নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।

জামায়াতের আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের বিষয়ে তিনি জানান, এ ঘটনায় সাইবার সিকিউরিটি আইনে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনলাইনে জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে কিছু কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে একটি পক্ষের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে এমন ঘৃণিত কাজ কোনো রাজনৈতিক দলের করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, শীর্ষ পদে নারী থাকা নয়, নারীর অধিকার আদায় হচ্ছে কি না—সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামী সংগঠন এবং কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তাঁর মতে, অতীতে দেশে নারী প্রধানমন্ত্রী থাকলেও নারীর অধিকার ও সহিংসতার প্রশ্নে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। তাই কেবল শীর্ষ পদে নারী থাকা সমাধান নয়, বরং মানবিক ও মর্যাদাশীল নেতৃত্বই বেশি জরুরি।

জামায়াতের মহিলা শাখার প্রধান ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী এবং এই নির্বাচনে তারা সাহসের সঙ্গে অংশ নিতে চায়। গত ১৫–১৬ বছর ভোট দিতে না পারায় এবারের নির্বাচন নারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, নারী ভোটারদের প্রতিহত করতে একটি গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী প্রতিনিধি রয়েছেন এবং সংগঠনটি নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

নারী প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সংগঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত। তবে ভবিষ্যতে নির্বাচনে নারী প্রার্থীরা অংশ নেবেন বলেও জানান তিনি। সারা দেশে নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের কাছে ১৫টি ঘটনার তথ্য ছবি ও ভিডিওসহ জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

 

 

 

 

All Categories