বিএনপির প্রস্তাব বিবেচনায় নিলে আসন্ন নির্বাচন হবে মাইলফলক: মঈন খান
বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ সরকারি কর্মকর্তারা যেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনো প্রক্রিয়ায় যুক্ত না হতে পারেন— এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির দাবি, কমিশন যদি স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে পারে, তবে আসন্ন নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।
মঈন খান বলেন, গত ১৫ বছরে প্রশাসনকে একটি রাজনৈতিক দলের অনুগতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে অতীতের তিনটি নির্বাচনে ভোটাররা প্রহসনের শিকার হয়েছেন এটা সবাই জানে। এখন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো, যেন বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তারা কোনোভাবেই নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে না পারেন। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয় জাতীয় স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, আমরা চাই তার ধারাবাহিকতায় ১৮ কোটি মানুষ যেন সত্যিকার গণতান্ত্রিক পরিবেশে বাস করতে পারে এবং ১২ কোটি ভোটার নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, অতীতের সব প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে যারা পূর্বে চাপ বা ভয়ের কারণে অন্যায় করেছেন, তাদের এখন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে হবে। যখন জনগণ বুঝবে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, তখন এটি উৎসবে পরিণত হবে।
মঈন খান বলেন, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের প্রধান দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। যদিও কমিশনের নিজস্ব জনবল সীমিত, কিন্তু সারাদেশে প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন পরিচালনা করতে ১০ লাখের মতো জনবল প্রয়োজন। এই বিশাল কাঠামো সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে আসে— তাই নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এমন ভূমিকা নিতে হবে যাতে জনগণ বিশ্বাস করতে পারে, তাদের কোনো দলীয় স্বার্থ নেই। সরকার ও কমিশন যদি সেই নিরপেক্ষতার বার্তা দিতে পারে, তাহলে শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
নির্বাচনি সংস্কার বিষয়ে বিএনপি যে প্রস্তাব ইসির কাছে জমা দিয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবায়ন করতে পারলে “দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হবে” বলেও মন্তব্য করেন মঈন খান।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কারও সঙ্গে জোট করবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোঅলিশন একটি স্বীকৃত পদ্ধতি। বিএনপি এখনও এ বিষয়ে উন্মুক্ত অবস্থানেই আছে। সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচনের সময় আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে আশঙ্কা করছেন নির্বাচনকালে বিশৃঙ্খলা হতে পারে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, নির্বাচন একটি উৎসবমুখর ঘটনাতেই পরিণত হবে।
গণভোটের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মঈন খান বলেন, সাধারণ নির্বাচন যেদিন হবে, আমরা চাই সেদিনই রেফারেন্ডামও অনুষ্ঠিত হোক।
বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।