বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিতের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। একইসঙ্গে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের সময়সীমা সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বুধবার (২৮ মে) যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা এপি। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই স্থগিতাদেশ সাময়িক এবং পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এটি বহাল থাকবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সই করা একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা কার্যক্রমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাইয়ের জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ কারণে কনস্যুলেটগুলোতে এখনই নতুন সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ না করতে বলা হয়েছে।

এপি জানায়, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রবেশে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগে গত সপ্তাহে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষমতা বাতিল করে প্রশাসন। তবে আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখে সেই সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রয়েছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘আবেদনকারীদের যাচাই করতে আমরা সব ধরনের তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। কে আসছে, সে ছাত্র হোক বা অন্য কেউ—আমরা নিশ্চিত হতে চাই।’

নতুন এই প্রক্রিয়ার আওতায় ভিসা আবেদনকারীদের ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার), টিকটকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হবে। বিশেষ করে পোস্ট, শেয়ার, মন্তব্য ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকির আশঙ্কা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

এ ধরনের স্থগিতাদেশের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের গ্রীষ্ম ও শরৎকালীন সেমিস্টারে ভর্তি ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এপি জানায়, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার কমে গেলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান ফেডারেল গবেষণা তহবিলের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভর করে, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

All Categories