বিবিসির প্রতিবেদন ‘অনৈতিক সাংবাদিকতার নির্লজ্জ উদাহরণ’: জয়
ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন নিয়ে সম্প্রচারিত বিবিসির প্রতিবেদনকে ‘অনৈতিক সাংবাদিকতার নির্লজ্জ উদাহরণ’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। গতকাল বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বিবিসির প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন এবং একে ‘একপেশে, পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রোপাগান্ডামূলক’ বলে আখ্যা দেন।
জয় লিখেছেন, “প্রতিবেদনটিতে বিকৃত তথ্য, খণ্ডিত প্রেক্ষাপট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যাখ্যা রয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য উপস্থাপনের ন্যূনতম প্রচেষ্টাও করা হয়নি।” তাঁর মতে, শেখ হাসিনার কথিত একটি অডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে সাজানো এই প্রতিবেদনটি একতরফাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বিক্ষোভের সহিংস পটভূমি বা নিরাপত্তা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘যেখানেই পাবে, গুলি করতে’ নির্দেশ দিয়েছেন—এমন একটি কথোপকথন ফরেনসিক বিশ্লেষণে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। বিবিসির দাবি, অডিওটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এই প্রসঙ্গে জয় বলেন, “তথাকথিত ফরেনসিক বিশ্লেষণের ওপর জোর দেওয়া হলেও কথোপকথনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা হয়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রাণ বাঁচাতে গুলি ছোড়ে। এই বাস্তবতা বিবিসি উপেক্ষা করেছে।

তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। টিভি স্টেশন ও ফায়ার সার্ভিসে হামলা হয়, চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীদের ওপর হামলায় অনেকে গুরুতর আহত হন। অথচ বিবিসির প্রতিবেদনে এসব নেই।”
জয় প্রশ্ন তোলেন, “যদি লন্ডন বা নিউইয়র্কে এমন ঘটনা ঘটত, তাহলে সংশ্লিষ্ট সরকার কি পুলিশকে আত্মরক্ষা করতে বলত না?” তাঁর অভিযোগ, প্রতিবেদনে সেনা সদস্যদের আচমকা সরে যাওয়া, পুলিশের আত্মরক্ষার বাধ্যবাধকতা বা বিক্ষোভকারীদের সহিংসতা ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিবিসি দাবি করে, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছেন। বিবিসি একে ‘১৯৭১ সালের পর দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা’ বলে উল্লেখ করেছে।
জয় বলেন, “ঘটনার দিন গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর বের হওয়ার সময়ের আগেই পুলিশকে ঘিরে ফেলা হয়। প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে তারা গুলি চালায়। এটি বিবিসি ‘নির্বিচার গুলিবর্ষণ’ হিসেবে তুলে ধরেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, সেদিন ড্রোন ব্যবহার করে ফুটেজ তোলা হয়েছিল, যা আগেভাগেই প্রস্তুত ছিল। এর উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা উচিত ছিল, অথচ বিবিসি তা করেনি।
জয় তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, ১৬ বছরের শাসনামলে শেখ হাসিনা কখনো অগণতান্ত্রিক পন্থা গ্রহণ করেননি। অথচ বিবিসির প্রতিবেদনে তাঁকে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।
, “এই প্রতিবেদন অনৈতিক সাংবাদিকতার এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। বিবিসি তাদের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও বিবিসির প্রতিবেদন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, অডিওর সত্যতা যাচাই ও এ ধরনের একপেশে প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হবে।